ঢাকা ও দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে কি এবার বড় কোনো বাঁকবদল আনতে যাচ্ছে নয়া দিল্লি? ঢাকায় নিযুক্ত বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়ামে বদলি করার পর থেকেই এই প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারতের প্রবীণ রাজনীতিক ও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা আরিফ মোহাম্মদ খানের সম্ভাব্য নাম। যদি গুঞ্জন সত্যি হয়, তবে স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাদেশে কোনো পেশাদার আমলার বদলে একজন জাঁদরেল রাজনীতিবিদকে পাঠাচ্ছে ভারত।
ভারত সচরাচর প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে ভারত পেশাদার কূটনীতির জন্য আইএফএস (ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস) কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দিয়ে থাকে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রত্যেকেই ছিলেন পেশাদার কূটনীতিক। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে আরিফ মোহাম্মদ খানকে বেছে নেওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন দিল্লির ‘আউট অব বক্স’ কূটনীতি হিসেবে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের জটিল গিঁটগুলো খুলতে কেবল আমলাতান্ত্রিক যোগাযোগ যথেষ্ট নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন অনুভব করছে সাউথ ব্লক।
৭৪ বছর বয়সী আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতের রাজনীতির এক বর্ণাঢ্য চরিত্র। তিনি কেবল একজন সাবেক মন্ত্রী বা কেরালা ও বিহারের সাবেক গভর্নরই নন, বরং ভারতের মুসলিম সমাজে একজন সংস্কারবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবেও পরিচিত। তিন তালাক প্রথা বাতিল থেকে শুরু করে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে তার অবস্থান তাকে ভারতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশের মতো মুসলিম প্রধান দেশে একজন ঝানু মুসলিম রাজনীতিককে হাইকমিশনার করে পাঠানোর পেছনে ভারতের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকতে পারে- ১. একজন রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক। ২. বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা মোকাবিলায় একজন অভিজ্ঞ মুসলিম নেতাকে সামনে রেখে ভারত হয়তো বিশেষ কোনো ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে।
ভারতে রাজনীতিবিদদের রাষ্ট্রদূত করার চল ভারতে নতুন নয়, তবে তা সাধারণত রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে। ইন্দর কুমার গুজরাল বা ডিপি ধরকে এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রথম এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা হবে নজিরবিহীন।
ভারতের আমলাতন্ত্র বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ইন্ডিয়ান ম্যান্ডারিনস’ ও ‘সাউথ এশিয়ান আপডেট’ বলছে, গত মাসে বিহারের গভর্নরের পদ থেকে সরানোর পর থেকেই আরিফ খানকে বড় কোনো কূটনৈতিক মিশনে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
/কহু