বৈশাখে ইলিশে উত্তাপ, বিক্রি কম

অলিউল ইসলাম

জাতীয়

পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ইলিশ মাছের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা

2026-04-11T00:29:21+00:00
2026-04-11T00:29:34+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বৈশাখে ইলিশে উত্তাপ, বিক্রি কম
অলিউল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ এএম  আপডেট: ১১.০৪.২০২৬ ১২:২৯ এএম
ইলিশ। ছবি : সংগৃহীত
পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ইলিশ মাছের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। তবে দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বিক্রি বাড়েনি। বরং উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই খালি হাতে ফিরছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া ও মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, মার্চ-এপ্রিল ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় এ সময়ে মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। তবে তেঁতুলিয়া, বিষখালী, যমুনা, পায়রা নদী ও সাগরে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও সেখানেও কাক্সিক্ষত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার বড় অংশই কয়েক মাস আগে ধরা হিমায়িত মাছ। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ইলিশও রয়েছে। নতুন ধরা ইলিশ কম থাকায় এগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি। শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজার, রায়ের বাজার, সাদেক খান কৃষি মার্কেট ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২৮০০ থেকে ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২২০০ থেকে ২৮০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ থেকে ২৭০০ টাকায়। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং ৫০০-৬০০ গ্রাম ইলিশ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও তা ২২০০ টাকাও ছাড়িয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতার উপস্থিতিও কম।
আরও পড়ুন

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে দেখা যায়, ৫০০-৬০০ গ্রাম ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২৭০০-২৮০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এক কেজির বেশি ওজনের মাছ প্রতি পিস ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিয়ানমারের ইলিশ ২২০০-২৩০০ টাকা এবং হিমায়িত ইলিশ ২০০০-২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও বড় আকারের ইলিশ ২৫০০-২৬০০ টাকায় পাওয়া যেত। বাজারের বেশিরভাগ মাছ বরিশাল অঞ্চল থেকে আসছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ সময় স্বাভাবিকভাবেই ইলিশের সরবরাহ কিছুটা কম থাকে। নদীতে পানি বেশি থাকায় মাছ ধরা কম হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। বাজারে আসা মাছের বড় অংশই পুরোনো মজুদ বা হিমায়িত। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে বিক্রি কমে গেলেও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের মাছ বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন মেহেদী বলেন, ‘ইলিশের দাম অনেক বেশি, তাই মাছও কম, ক্রেতাও কম। এক সপ্তাহে কেজিতে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা দাম বেড়েছে। সারা দিনে মাত্র ১২ পিস মাছ বিক্রি করেছি।’ একই বাজারের বিক্রেতা সাব্বির আহাম্মেদ বলেন, ‘আমার কাছে চার ধরনের ইলিশ আছে, তবে ২২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা চলে যাচ্ছেন।’

ক্রেতা নাজমুন নাহার বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার আলাদা আনন্দ আছে। কিন্তু এভাবে দাম বাড়লে মধ্যবিত্তদের জন্য কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ আরেক ক্রেতা মাহমুদুল হাসান তুহিন বলেন, ‘ইলিশ এখন উচ্চবিত্তের খাবারে পরিণত হয়েছে। দাম শুনে কিনতে সাহস পাচ্ছি না।’

ধানমন্ডির রায়ের বাজারে ৫০০-৬০০ গ্রাম ইলিশ ২৫০০-২৭০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ইলিশ ৩২০০ থেকে ৩৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানে মিয়ানমার ও হিমায়িত ইলিশও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, তবে সরবরাহ সীমিত।

রায়ের বাজারের ব্যবসায়ী রিমন সরকার বলেন, ‘আমরা নিজেরাই বেশি দামে কিনছি। তাই কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।’ ক্রেতা আব্দুর রউফ বলেন, ‘ইলিশের দাম এমন পর্যায়ে গেছে যে এখন নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়।’

কারওয়ান বাজারে বরিশাল থেকে আসা ইলিশ মনপ্রতি ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মণে প্রায় ৪০টি মাছ থাকে। চাঁদপুরের ইলিশও পাওয়া গেলেও তা খুবই সীমিত এবং দাম বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে দাম আগেই বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। পহেলা বৈশাখ সামনে থাকায় কিছু ব্যবসায়ী আগে থেকেই মাছ মজুদ করছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে দাম আরও বাড়ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, ‘বিক্রি খুবই কম। বৈশাখের যে আমেজ থাকার কথা, তা নেই।’ আরেক বিক্রেতা আব্দুস সামাদ বলেন, ‘সাধারণ সময়ে ২-৩ লাখ টাকার বিক্রি হলেও এবার তা অনেক কম।’

ক্রেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চারা বৈশাখে ইলিশ খেতে চেয়েছিল, কিন্তু দাম এত বেশি যে কেনা সম্ভব হয়নি।’ আরেক ক্রেতা রিয়াদুল হাসান বলেন, ‘এবার মনে হচ্ছে ইলিশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পহেলা বৈশাখ এলেই ইলিশের দাম বাড়ে- এটি এখন একটি প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। সরবরাহ থাকুক বা না থাকুক, দাম বাড়ানো হয়। বেশি লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই মাছ মজুদ করেন, ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, এটি শুধু ইলিশ নয়, প্রায় সব পণ্যের ক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা যায়। চাহিদা বাড়লেই দাম বাড়ে এবং অনেক সময় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। ফলে ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারেন না।

এএডি/

  বিষয়:   বৈশাখ  ইলিশ  উত্তাপ  বিক্রি  পহেলা বৈশাখ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: