রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মঈন উদ্দিন ছাড়া আরও চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)।
এর আগে সম্প্রতি মানবিক চিকিৎসক খ্যাত ডা. কামরুল ইসলামের ওই হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে মঈন উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে দলবল নিয়ে হাজির হন মঈন উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি। যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দিতে দেখা যায় তাকে।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকেই নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন স্থানীয় ওই কথিত নেতা। চাপে ফেলতে ডা. কামরুলকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালের সামনে মব তৈরিরও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ শুনে মধ্যরাতেই হাসপাতালটিতে ছুটে যান যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন নিজেকে শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিলেও কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, যুবদলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই তার। ডাক্তার কামরুলকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।
এ ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মঈন উদ্দিনকে এক নম্বর আসামি করে অজ্ঞাত সাত থেকে আটজনকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে হানিফ উল্লেখ করেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী তিন নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদাবাবদ এখনই তাদেরকে পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়।
‘আমার স্ত্রী আসামিদের চাওয়া চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি। পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে আসামি মঈনসহ অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজন আসামিরা ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।’
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে বলে ‘কামরুলের দুই গালে জুতা মারো’ এবং ‘কামরুলের পিঠের চামড়া তুলে নেব’ মর্মে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এ ছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনেন।
প্রসঙ্গত, হাসপাতালটি ২ হাজারের বেশি মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেশে-বিদেশে সমাদৃত। মানব সেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি।
সময়ের আলো/জেডআই