পহেলা বৈশাখের প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালে এবার সমান গুরুত্ব পেয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন স্পটে মোতায়েন করা হয়েছে ২০ প্লাটুন সদস্য।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, উৎসবমুখর পরিবেশে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও জনসমাগমস্থলগুলো। এর মধ্যে রয়েছে রমনা বটমূল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকা, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, দোয়েল চত্বর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, শহীদ জিয়া শিশু পার্ক এবং রবীন্দ্র সরোবর। এসব এলাকায় বিজিবি সদস্যদের টহল ও অবস্থান জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
এবারের নববর্ষ উদযাপন তাই শুধু রঙ-উৎসব নয়, বরং একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত একটি জাতীয় আয়োজন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই মোতায়েন।
উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভোর থেকেই জমে উঠেছে রাজধানী। ছায়ানটের আয়োজনে রমনায় সুরের আবহে বর্ষবরণ, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রা- সব মিলিয়ে শহরজুড়ে উৎসবের রঙ।
শোভাযাত্রার মোটিফ, লোকজ সংগীত, আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ফুটে উঠেছে বাঙালির ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। গ্রাম থেকে শহর- সবখানেই নববর্ষ উদযাপন যেন এক অভিন্ন আনন্দের ভাষা হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও উৎসবের আমেজে ভাটা পড়েনি। বরং সুশৃঙ্খল পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
এএডি/