আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। বিশেষ করে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় দলে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলার বিষয়টি তাকে ভাবাচ্ছে। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ব্যাটারদের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই দল গড়ার পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
সাম্প্রতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ছয় নম্বরে ব্যাট করা আফিফ হোসেন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত চার নম্বরে খেলেন। একই চিত্র দেখা যায় লিটন দাস, মাহিদুল ইসলাম, তাওহীদ হৃদয় এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ক্ষেত্রেও। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে ওপরে খেললেও জাতীয় দলে ভিন্ন ভূমিকায় নামতে হচ্ছে।
এ নিয়ে কোচ সিমন্স বলেন, আমাদের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই ঘরোয়া ক্রিকেটে টপঅর্ডারে খেলে। মিরাজ, অঙ্কন সবার ক্ষেত্রেই একই চিত্র, সবাই ওপরে ব্যাট করে। এ নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, কিন্তু এখানে এলে তাদের ভিন্ন ভূমিকায় মানিয়ে নিতে হয়। এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়রা ওই জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় বিষয়ই হলো- আপনাকে প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে যেটাতে অভ্যস্ত সেটার ওপর নির্ভর করলে চলবে না।
শুধু মিডল অর্ডার নয়, পুরো ব্যাটিং ইউনিট নিয়েই উন্নতির প্রয়োজন দেখছেন সিমন্স। তার ভাষ্য, আমাদের খেলায় সব দিকেই উন্নতির জায়গা আছে, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। টপঅর্ডার থেকে শুরু করে পাঁচ, ছয়, সাত, আট নম্বর- সব জায়গাতেই উন্নতির সুযোগ রয়েছে। আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।
তবে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের উন্নতির আভাসও দেখছেন তিনি, আপনি যে শেষ ১০ ওভারের কথা বলছেন, সেখানে আমরা ভালোই করছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আমরা শেষ ১০ ওভারে প্রায় ৮০ রান করেছি। তাই এই জায়গায় আমরা এগোচ্ছি।
আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে ওপেনিং জুটি নিয়েও আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। আপাতত তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানের ওপরই ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিমন্স বলেন, আমরা মোটামুটি স্থির হয়ে গেছি। গত সিরিজে ভালো পার্টনারশিপ হয়েছে। এখানকার প্রস্তুতি ম্যাচেও সাইফ দেখিয়েছে সে তার ছন্দে ফিরছে। তাই আপাতত আমরা এই জুটিতেই থাকছি।
তানজিদ হাসান তামিম পাকিস্তান সিরিজে ছিলেন দারুণ ছন্দে। প্রথম ম্যাচে ৬৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পর শেষ ম্যাচে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে সাইফ হাসান সেই সিরিজে ভালো করতে না পারলেও প্রস্তুতি ম্যাচে ১৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে দলে থাকা আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে একাদশের বাইরে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন ম্যাচজয়ী ৯১ রান। এ প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, আমার চিন্তা একই আছে। সৌম্য খুবই ভালো খেলোয়াড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সে ভালো খেলেছিল। কিন্তু বিপিএল ও ডিপিএলের মাঝ সময়টায় তাকে দীর্ঘ সময় ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয়েছে। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে অন্যরা ভালো করেছে। তাকে দলে ফিরতে হলে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
লিটন দাসের ব্যাটিং পজিশন নিয়েও এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে চাননি কোচ, ‘আমরা এখনও চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করিনি। এখানে এসেছি মাত্র, তাই এ বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি।’ ব্যাটিং পজিশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মানিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ের মধ্যেই নিউজিল্যান্ড সিরিজে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সময়ের আলো/আআ