চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা, শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। এর প্রভাব পড়েছে দর্শকদের শরীরেও।প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ের চাপ অনেক সমর্থকের জন্য হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। আর্জেন্টিনার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ তুকুমানে চিকিৎসকরা বলছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে হৃদরোগ-সংক্রান্ত জরুরি রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এমনটায় জানায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাময়িকী এএস ইউএসএের এক প্রতিবেদনে।
তুকুমান প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইস মেদিনা রুইজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের রোমাঞ্চকর ম্যাচের সময় অন্তত দুইজন সমর্থক হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এর ফলে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রদেশটিতে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। অথচ সাধারণ সময়ে সেখানে মাসে গড়ে প্রায় ২০টি এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়।
দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ম্যাচ চলাকালে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ৩০টিরও বেশি জরুরি ফোনকল আসে। এসব কলের বেশিরভাগই ছিল বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যাকে কেন্দ্র করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একজন রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সময়ই হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হন। পরে তাকে একটি হাসপাতাল থেকে অন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার হৃদযন্ত্রে দুটি স্টেন্ট বসানো হয়।
লুইস মেদিনা রুইজের ভাষ্য, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রিয় দলের ম্যাচ ঘিরে যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হয়, তা হৃদযন্ত্রের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ম্যাচটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ছিল এবং সেই মানসিক চাপ অনেকের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে, যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয় সমর্থকদের আনন্দ এনে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত উত্তেজনা ও মানসিক চাপ বিপজ্জনক হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ উপভোগের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/আআ