মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকটের কথা অস্বীকার করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষাই বলে দিচ্ছে পরিস্থিতি কতটা নাজুক। চাহিদামতো তেল না পেয়ে অনেক চালককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সরাসরি গণপরিবহন ব্যবস্থায়।
সোমবার (৭ মার্চ) রাজধানীর সায়েদাবাদ ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসগুলোর শিডিউল পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগে একটি পাম্প থেকেই পুরো ট্যাংক ভর্তি করা যেত। কিন্তু এখন প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে ৫ থেকে ৬টি পাম্প ঘুরতে হচ্ছে। এতে প্রচুর সময় নষ্ট হওয়ায় সময়মতো বাস ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ছোট কোম্পানি তেলের অভাবে ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছে।
সায়েদাবাদে তিশা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আহসান হাবিব জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে। একটি বাসের তেল জোগাড় করতে এখন পাঁচটি পাম্পে যেতে হয়। ফলে যে বাসগুলোতে তেল আগে থেকে থাকে, সেগুলো আগে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। লাবিবা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার হাসান বলেন, গাজীপুরের পরিচিত পাম্প থেকেও ৪০-৫০ লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছে না। বাকি তেলের জন্য আবার অন্য পাম্পে লাইন দিতে হচ্ছে।
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। আজিমপুর-গাজীপুর রুটের ভিআইপি বাসের চালক মোহাম্মদ মামুন জানান, দিন শেষে যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার চলত। কিন্তু এখন তেল না পাওয়ায় গাড়ি চালানো যাচ্ছে না, ফলে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। হাজার হাজার শ্রমিকের দিন কাটছে এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস কাউন্টারে বসে থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রীরা। পূর্বাশা পরিবহনের যাত্রী তৌহিদুল জানান, তার বাস এক ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। কাউন্টার থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলা হলেও পরে জানতে পারেন মূলত তেলের সংকটের কারণেই এই দেরি। মাঝপথে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চালকদের সাথে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডাও এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/কহু