দাম বাড়লেও ছোট হয়নি অপেক্ষার সারি

সমীরণ রায়, শাকিল আহমেদ ও অলিউল ইসলাম

জাতীয়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই রয়েছে দীর্ঘ লাইন, সেই

2026-04-20T02:20:24+00:00
2026-04-20T02:20:24+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
দাম বাড়লেও ছোট হয়নি অপেক্ষার সারি
সমীরণ রায়, শাকিল আহমেদ ও অলিউল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২০ এএম 
মেঘনা পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে মোটরসাইকেলের লাইন। ছবি : সময়ের আলো
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই রয়েছে দীর্ঘ লাইন, সেই সঙ্গে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা।

পরীবাগ, শাহবাগ, রমনা, তেজগাঁও, বিজয় সরণি থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে একই দৃশ্য- ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি, ক্লান্ত চালক, আর সীমিত তেল সরবরাহ। কোথাও ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সামান্য তেল মিলছে, আবার কোথাও পুরো দিন অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন।

রাজধানীর জ্বালানি তেল বাজারে এখন প্রশ্ন একটাই- দাম যখন রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানো হলো, তখন সরবরাহ কেন বাড়ল না? 

রেকর্ড পরিমাণ দাম বৃদ্ধির পরও রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ না বাড়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, সীমিত সরবরাহ ও ‘বৈষম্যের’ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। তেল নিতে আসা চালকদের অনেকেই সকাল থেকে পাম্পের সামনে বসে আছেন, কেউ কেউ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন। কোথাও ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে সামান্য তেল। কোথাও আবার রাতভর লাইনে থেকেও মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা। এমন বাস্তবতায় ক্ষোভ, হতাশা আর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে নগরজীবনে।

গত শনিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে রেকর্ড দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হলেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বস্তি ফেরেনি। রোববার রাজধানীর পরীবাগ, তেজগাঁও, রমনাসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে হতাশার চিত্র দেখা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জ্বালানি শেষ হয়ে যাচ্ছে, এরপরও দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন গ্রাহকরা।

‘আবার বিদেশ চলে যাব’ : রাজধানীর শাহবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের তেলের লাইনে রোববার সকাল ৮টা থেকে অপেক্ষা করছিলেন ব্যবসায়ী মো. আমানুল্লাহ। ডেমরা থেকে ভোরে তেল নিতে আসেন তিনি। ভেবেছিলেন, সকালে চাপ কিছুটা কম থাকবে; অল্প সময়ের মধ্যে তেল নিয়ে বাসায় গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম করে কাজে ফিরবেন। কিন্তু বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাননি তিনি। আরও অন্তত এক ঘণ্টা লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। আট ঘণ্টা অপেক্ষার পর বললেন, ‘আবার বিদেশ চলে যাব’।

বিকাল ৪টার দিকে পাম্পের পাশেই সাকুরা রেস্টুরেন্ট ও বারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মো. আমানুল্লাহ। সেখানেই তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, তিনি আগে স্পেনে ছিলেন এবং বর্তমানে জমির ব্যবসা করেন। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে এসেছিলেন শান্তিতে থাকার আশায়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে দেশে আর শান্তিতে থাকা সম্ভব হবে নয়। তাই আবার বিদেশে চলে যাওয়ার কথাই ভাবছেন তিনি।

আমানুল্লাহ বলেন, তার বাইকে তেল লাগবেই, তাই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। অন্য পাম্পে তেল পাওয়া যায় না। শাহবাগে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল পাওয়া যাচ্ছে, অথচ অন্য জায়গায় তেল নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি পরস্পরবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাকুরা রেস্টুরেন্ট ও বারের সামনে যখন তার সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন সামনে শতাধিক মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। মো. আমানুল্লাহ বলেন, আজকের পুরো দিনই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পরিবার চালাবেন কীভাবেÑ এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, আজ কোনো আয় নেই, বরং ঋণ তৈরি হয়েছে। কাল কাজ করে সেই ঋণ শোধ করতে হবে।

৫৩ বছর বয়সি মো. আমানুল্লাহ আরও জানান, তার বাড়ির পাশে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তিনটি পাম্প রয়েছে, পাশাপাশি নাগরপাড়ায় আরও একটি পাম্প আছে। কিন্তু কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। 

এ সময় পাশে থাকা মোটরসাইকেল চালক মো. নাসির গত শনিবার রাতে নাগরপাড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে মারামারির ঘটনার কথা উল্লেখ করেন বলেন, সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাননি। তার বাসা বনশ্রীতে। বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে ভেন্ডরের কাজ করেন।

মো. নাসির সময়ের আলোকে বলেন, নাগরপাড়ায় লাইনে কার আগে কার সিরিয়াল তা নিয়ে গ্যাঞ্জাম লাগে। আমি এক কিলোমিটার দূরে সিরিয়ালে ছিলাম। পরে চিন্তা করলাম, এই পাম্পে থাকার দরকার নেই, আমি অন্য পাম্পে যাব। হাফ লিটার তেল যাক, কিন্তু গ্যাঞ্জামহীন সিরিয়াল পেলে অন্তত ঠিকমতো তেলটা নিতে পারব।

তিনি বলেন, এই পাম্পে তেল পেতে আমার আরও ঘণ্টাখানেক লাগবে। তারপর কাজে ফিরতে আরও ঘণ্টাখানেক। তা হলে দিন তো আর থাকে না। সরকার বলল, পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল আছে। কিন্তু পাম্পে এলে বোঝা যায়, এগুলো সব ভুয়া কথা। এর মধ্যে তেলের দামও বেড়েছে। তারপরও আমাদের এ ভোগান্তি কেন?

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকের সংখ্যা ছিল অনেক। ভোরের আলো ফোটার আগেই অনেকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ কেউ ফজরের নামাজ শেষ করেই ছুটে এসেছেন পাম্পের দিকে, যাতে অপেক্ষার সময়টা কিছুটা হলেও কমানো যায়। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, লাইন ততই দীর্ঘ হয়েছে, চাপও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে।

পাম্পের মূল প্রবেশমুখ থেকে শুরু হওয়া যানবাহনের সারি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের সড়কজুড়ে। সেই লাইন মোতালিব প্লাজা অতিক্রম করে আবার পাম্পের পাশ ঘেঁষে ঘুরে এসেছে। সরু রাস্তা, পাশের দোকানপাট ও পথচারীদের চলাচল, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে একটি গাড়িকে পাম্পে পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রেও অপেক্ষার সময় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার কম নয়।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের মধ্যে ক্লান্তি, বিরক্তি ও হতাশা স্পষ্ট। কেউ গাড়ির ভেতরে বসে সময় পার করেন, কেউ আবার রাস্তায় নেমে সহচালকদের সঙ্গে গল্প করেন। তবু সবার চোখে একই প্রশ্ন- আর কতক্ষণ?

সকাল ৮টায় এই লাইনে দাঁড়ান লালবাগ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মো. সুমন। বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকেও তেল পাননি তিনি। সুমন সময়ের আলোকে বলেন, আমরা সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়ানো। কিন্তু দেখেন ওদিক থেকে ভিআইপি পাস দেখিয়েই ঢুকছে। অনেকে আবার জোর করে ঢুকে পড়ছে। 

কেউ প্রভাবের জোরে ঢুকছে, কেউ পোশাকের জোরে, কেউ কার্ড দেখিয়ে। অথচ তাদেরও ১৪০ টাকা দিতে হচ্ছে, আমরাও ১৪০ টাকা দিচ্ছি। দাম তো কম নিচ্ছে না। কিন্তু আমরা কষ্ট করছি, তারা কষ্ট করছে না। ওদিকে গিয়ে দেখেন তারা পাম্পে গিয়েই তেল নিয়ে নিচ্ছে। এখন এই কথা কারে বলব? কষ্টটা সব সাধারণ জনগণের।

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, তাদের পাম্পে পর্যাপ্ত তেল আছে। তবে গ্রাহক সংখ্যা অধিক হওয়ায় লাইনের চাপ কমছে না। একই সঙ্গে ভিআইপি কার্ডধারীর সংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় সাধারণ মানুষ কম তেল পাচ্ছে বলে মত তাদের।

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. রবিন সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের এখানে দুটি সিরিয়াল। একটি সাধারণ চালকদের জন্য। আরেকটি প্রশাসন, মিডিয়াসহ ভিআইপি কার্ডধারীদের। আজকে এই লাইনে গ্রাহক বেশি। যার চাপটা পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।

তবে ভিআইপি কার্ডধারীদের বিষয়টি অস্বীকার করেন মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের ক্যাশিয়ার এম এ মান্নান। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের এখানে ভিআইপি টিআইপি কিছু নেই। অ্যাপ থাকলে ১০০০ টাকা, আর না থাকলে ৫০০ টাকার দিচ্ছি।

দাম বাড়লেও চাহিদামাফিক সরবরাহ নেই : এদিকে রোববার রাজধানীর রমনা পেট্রোল পাম্পেও দেখা যায় একই রকম চিত্র। নিত্যদিনের মতো সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মোটরসাইকেল চালকরা। পাশাপাশি দীর্ঘ লাইন ছিল প্রাইভেটকার ও জিপ গাড়ির। কেউ কেউ ফজরের নামাজ পড়েই গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন। প্রথমেই রমনা পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে (হাইকোর্টের গেট অথবা গণপূর্ত অধিদফতরের) সামনে দিয়ে শুরু হয় গাড়ির লাইন। 

এরপর কদম ফোয়ারার উত্তর পাশ ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেঁষে ইউটার্ন নিয়ে বারডেম -২ হাসপাতাল ও শিল্পকলা একাডেমির সামনে দিয়ে রমনা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে তেল নিতে হয়। কিন্তু এই পথ পাড়ি দিতে গাড়িচালকদের ৭ থেকে ৮ ঘন্টা সময় লেগে যায়। আর মোটরসাইকেল চালকদের কোনো ক্ষেত্রে ৪-৬ ঘণ্টা সময় লাগে পাম্পের সামনে যেতে। এতে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। 

অন্যদিকে পল্টন মোড় থেকে শুরু হয় মোটরসাইকেলের লাইন। তারা পল্টন মোড় হয়ে সচিবালয়ের মেট্রো স্টেশনের নিচ দিয়ে এসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোল ঘেঁষে বারডেম-২ হয়ে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দিয়ে রমনা পেট্রোল পাম্পে এসে তেল নেন। ফলে মোটরসাইকেল চালকদের এই এলাকা ঘুরে পাম্পে আসতে প্রায় ৪-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। কেউ কেউ বলছেন, ‘হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। যেহেতু তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তেল নেওয়ার ক্ষেত্রেও সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনা উচিত।’ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন যারা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। তাদের দিনের বেশিরভাগ সময়ই এই তেলের পেছনে ব্যয় করতে হয়।
 
রাজধানীর বকশী বাজার এলাকা থেকে ভোর সাড়ে ৫টায় এসে রমনা পেট্রোল পাম্পের সামনে প্রাইভেটকারের জন্য তেল নিতে এসেছিলেন সুমন। তিনি জানান, গাড়িতে তেল নেই, লাল বাতি জ্বলছে। গাড়িরর মালিক তার কর্মস্থলে গেছেন রিকশায়। তিনি সকালের নাস্তা সেরেছেন গাড়িতেই। কিন্তু গাড়ি আর নড়ে না। এখন দুপুর ১টা বাজে। এতক্ষণ গাড়িতেই আছেন। শুধু তাই নয়, রাত সাড়ে ৩টায় ঘুম থেকে উঠে গাড়ির মালিকের বাসায় গেছেন। ঘুম হয়নি। গাড়িতে যে একটু ঘমিয়ে নেবেন তারও সুযোগ নেই। কারণ একটার পেছনে একটা লাগানো গাড়ি। সামনের গাড়ি একটু এগোলে তাকেও এগোতে হয়। সেটি না হলে পেছনের গাড়ি থেকে বকাঝকা করা হয়। ফলে ঘুমাতেও পারছেন না। 

সেগুনবাগিচা থেকে রমনা পেট্রোল পাম্পে এসেছিলেন আব্দুর রহমান। একটি কোম্পানির জিএমের গাড়ি চালান। তিনি জানান, ফজরের নামাজ পড়ে এসেছেন। মৎস্যভবনের সামনে পৌঁছান দুপুর ২টায়। এ পুরো সময়টাই তাকে গাড়ির মধ্যে বসে থাকতে হয়েছে। তিনি জানান, হয়তো আর আধাঘন্টার মধ্যে গাড়িতে তেল নিতে পারব। কিন্তু দিনের পুরোটা সময়ই তো চলে গেলে। কখন গাড়িতে তেল নেব। আর কখনই বা গোসল করবো। রাতে ঘুমও ঠিকমতো হয় না। 

আবার পাম্প যতটুকু তেল দেয়, তাতে ৩ থেকে ৪ দিন যায়। এরপর আবার আসতে হবে। এভাবে কি একটা দেশ চলতে পারে। চাইলেই কিন্তু পুরো ট্যাঙ্ক ফুল করে দিতে পারে পাম্পগুলো। তাহলে কিছুটা স্বস্তি মিলতো। কিন্তু পাম্পগুলো তা দিচ্ছে না। 

পল্টন মোড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে লাইন দাঁড়ান। তার অভিজ্ঞতা আরও করুণ। তিনি বলেন, কখন তেল পাব, তা ঠিক বলতে পারছি না। দিনটা তো এখানে পার হয়ে গেল। কেমন করে সংসার চালাব। আমার ছেলেটা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট ছেলেটার বয়স দুই বছর। অনেক খরচ। এভাবে যদি মোটরসাইকেল চালাতে না পারি, কীভাবে সংসার চালাব। রাতে ঘুম আসে না। এত কষ্ট করে পাম্পের সামনে গেলে তেল দেয় মাত্র ৫ লিটার। 

রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য আমার পাম্পে কোনো প্রভাব পড়েনি। আর এ পাম্পে অকটেন ছাড়া আর কোনো তেল নেই। আগে যেখানে ৩০-৩২ হাজার লিটার দৈনিক তেল পেতাম। সেখানে এখন পাই মাত্র ১৮ হাজার লিটার। আজও ১৮ হাজার লিটার পেয়েছি। চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশি। আমি তো কাউকে তেল বেশি দিতে পারব না। 

সকাল পৌনে ১১টায় তেল পেয়েছি। সোয়া ১১টা থেকে তেল দেওয়া শুরু কেরেছি। বিকাল ৩-৪টা পর্যন্ত চলবে। মোটর সাইকেলে ৭০০ টাকায় ৫ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। আর প্রাইভেটকারে ২৫০০ টাকায় ১৮ লিটার ও জিপ গাড়িতে ৩০০০ টাকার ২৫ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমি কাউকে ফুল ট্যাংকি ভর্তি করে তেল দিতে পারছি না। প্রতিদিন গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার লিটার তেল কম পাচ্ছি। আমি জানি লাইনে দাড়িয়ে মানুষ কষ্ট করছে। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই।

ট্রাস্ট পাম্পে দৌরাত্ম্য নেই ভিআইপির : বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন, যা মহাখালী পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল। মোটরসাইকেলের সিরিয়াল মেইনটেনে কাজ করেন সেনা সদস্যরা। এ ছাড়া পাম্পের নিরাপত্তা কর্মীদের মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইন ঠিক রাখতে কাজ করতে দেখা গেছে।

লাইনে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একদিন আগে থেকে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এর মধ্যে কেউ শনিবার রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে গতকাল দুপুর ২টায়ও পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছাতে পরেনি।

মো. রিপন নামে এক ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী বলেন, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে তিনটায় লাইনে দাঁড়িয়েছি এখন সময় দুপুর দুইটা এখনো তেল পাম্পের ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি। তবে পাম্পের কাছাকাছি এসেছি। হয়তো আর আধাঘণ্টার মধ্যে তেল পাম্পে ঢুকে তেল নিতে পারব।

বেসরকারি একটি কোম্পানির প্রাইভেটকারের জন্য তেল নিতে এসেছিলেন মো. আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, আজ সকাল সাতটায় সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি; কিন্তু এখনো এখনো তেল নিতে পারিনি। 

পাম্পের এক কর্মী জানান, দীর্ঘ লাইন থাকায় তেল সরবরহে কোনো বিরাম নেই। একটার পর একটা গাড়ি ঢুকছে। তবে সেনাবাহিনীর পাম্প হওয়ায় এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। কোনো পরিচয় কিংবা ক্ষমতার দাপট দেখা হচ্ছে না। সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   দাম  অপেক্ষা  সারি  জ্বালানি তেল 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: