ইসলামাবাদে বহুল প্রতীক্ষিত ইরান-মার্কিন শান্তি আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশা এবং দুই দেশের মধ্যকার চরম উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাপানে অবস্থানরত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর এই অচলাবস্থা কেবল জ্বালানি সরবরাহ নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। এই নৌপথটি দ্রুত খুলে দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার যুদ্ধের শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই বর্তমানে লেনদেন করছেন। তবে ইরান-মার্কিন এই স্নায়ুযুদ্ধে নতুন কোনো মোড় এলে পুরো অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নৌ-অবরোধ ও হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ‘মাথা নত না করার’ ঘোষণাস দিয়েছেন।
/কহু