গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নামে মোট ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ও অতিরিক্ত সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার দুদকের কমিশন থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নিজ নামে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের ক্ষেত্রেও অর্জিত সম্পদের সঙ্গে আয়ের উৎসের বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়েছে।
যার মধ্যে স্ত্রী ফাতেমা সেলিম নামে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ, ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের নামেই সবচেয়ে বেশি ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকা, মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং তার ছেলে ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের নামে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকা বেশি সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে অনুসন্ধান টিম।
দুদক জানায়, শেখ সেলিম ব্যতীত তার স্ত্রী ও সন্তান— এই চারজনের নামে-বেনামে দেশে বা বিদেশে আরও বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ লুকানো রয়েছে বলে ধারণা করছে কমিশন। সেসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই এবং অর্জিত সম্পদের সঠিক উৎস উদঘাটনের জন্য তাদের চারজনকেই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলে নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নোটিস জারি করা হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি