প্রধানমন্ত্রীর পোনা অবমুক্তকরণে মরা মাছ, আসলে কী ঘটেছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ক্রিসেন্ট লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে পোনা

2026-09-01T19:26:55+00:00
2026-09-01T19:54:17+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর পোনা অবমুক্তকরণে মরা মাছ, আসলে কী ঘটেছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম  আপডেট: ০১.০৯.২০২৬ ৭:৫৪ পিএম
জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ক্রিসেন্ট লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে পোনা অবমুক্ত করার সময় মরা মাছ ছাড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জিয়া উদ্যানের লেকের বেইলি ব্রিজসহ কয়েকটি স্থানে নিজ হাতে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি।

Advertisement
ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে মরা মাছের দিকে ইঙ্গিত করে কিছু একটা বলতে শোনা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাছগুলো কেন মারা গেল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

বিষয়টি জানতে প্রথমে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিটি মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বে ছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পেলে কোনো পোনা মারা যেত না। আমাদের অধিদপ্তরের আয়োজনে সম্প্রতি কটিয়াদিতে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী পোনা অবমুক্ত করেছেন। সেখানে কোনো ব্যত্যয় হয়নি। তবে আজ কারা এর দায়িত্বে ছিল, আমরা জানি না।’

পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) আরিফুর রহমান তুষার জানান, পোনা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী সোহেল।

এ বিষয়ে হাবিব-উন-নবী সোহেল সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমার সাধারণ ধারণায় মনে হয়েছে, মাছগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়ায় মারা গেছে। এত পোনার মধ্যে মারা যাওয়ার সংখ্যা খুবই নগণ্য ছিল। আর কিছু মাছ প্রথমদিকে ভেসে ছিল; পরে পানির সঙ্গে এডজাস্ট হয়ে ডুবে যায়। ভেসে থাকা সব মাছ মৃত ছিল না।’

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের দায়িত্বে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়েছে।

পরে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্যসচিব আবদুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।


তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘প্রথমত আমরা সোমবার রাত ৩টায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে পোনা সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে পোনা মাছের গাড়ি পৌঁছায় জিয়া উদ্যান এলাকায়। প্রধানমন্ত্রী পোনা অবমুক্ত করার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা মাছের অক্সিজেন খুলে ফেলেন।’

আবদুর রহিম বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তারা পোনা মাছ থেকে পলিথিনগুলো খুলে ফেলেন। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি; কিন্তু তারা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর ফলে কিছু মাছ মারা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৩০-৪০ কেজি মাছ এনেছিলাম। বেশির ভাগ মাছই ভালো ছিল। প্রধানমন্ত্রী পোনা অবমুক্ত করার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি তেমন কিছু বলেননি। শুধু বলেছেন, মাছগুলো মারা গেলে কীভাবে?’

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘২-৩ হাজার পোনার মধ্যে ২০-৩০টি পোনা মারা যেতেই পারে। এটাকে এত বড় করে দেখার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার একটা বিষয় থাকে। সেখানে অনেক আগে মাছ এনে রাখা হয়েছিল। অক্সিজেনের স্বল্পতা ছিল, পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কিছু পোনা মারা গেছে। এটা প্রধানমন্ত্রী নিজেও বোঝেন।’

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  পোনা অবমুক্তকরণ  মরা মাছ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: