সারা দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর। সংগঠনটির দাবি, গত সাত মাসে প্রায় ১৫ হাজার শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার এ তথ্য দেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা বলেও মনে করছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানায় কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সাত মাসে সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিডি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর বিবৃতিতে বলেন, এত বিপুলসংখ্যক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে কতজন উদ্ধার হয়েছে, কতজন পরিবারের কাছে ফিরেছে এবং কতজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে না আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
নেতারা বলেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং সুরক্ষিত পরিবেশে জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়া শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য সংকট তৈরি করে না, এটি দেশের শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে কার্যকর তদন্ত ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি হালনাগাদ ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির দাবি জানিয়েছে খেলাঘর। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুর প্রকৃত সংখ্যা, উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা এবং এখনো নিখোঁজ থাকা শিশুদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু পাচার, অপহরণ, নির্যাতন ও শোষণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শিশু সুরক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খেলাঘরের নেতারা বলেন, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সময়ের আলো/কেআই