লেবাননের পূর্ব বেকা উপত্যকার সোহমোর ও মাশঘারা শহরে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের দেহ উদ্ধারের লোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে।
সোহমোর শহরের বাসিন্দা আলী রিদা জানান, ভোর রাত ৩টা ৩০ মিনিটে আকস্মিক ইসরায়েলি হামলায় তার বাড়ির মালিকের সন্তানদের দেহ রাস্তায় ছিটকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। রিদার ওয়ার্কশপের ওপরের তলায় পরিবারটি বসবাস করত।
আলী রিদা ক্ষোভের সাথে বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। তারা বেসামরিক মানুষ এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য পরিচিত। এখানে একজন নারী তার ছেলে ও মেয়েসহ প্রাণ হারিয়েছেন। ভাবুন তো, তারা ঘরে বসে নিজেদের নিরাপদ মনে করছিলেন।
হামলায় শিশুদের বাবা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে তার দুই পা ভেঙে গেছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বেঁচে থাকবেন কিনা বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
সোহমোর শহরের মেয়র ইস্কান্দার বারাক জানান, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৪০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষ ফিরে এলেও তারা চরম আতঙ্কে আছেন। সবাই এখন শান্তি আলোচনার অপেক্ষায়। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
একই এলাকার মাশঘারা শহরেও আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মাহমুদ ইব্রাহিম নামে এক বেঁচে যাওয়া বাসিন্দা জানান, গাড়ি পার্ক করে ঘরে ঢোকার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই শক্তিশালী বিস্ফোরণে তার পুরো বাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কাঁচ ও অ্যালুমিনিয়ামের জানলা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যেই।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে চালানো হচ্ছে যখন পুরো অঞ্চল একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি চুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। বেসামরিকদের ওপর এমন নির্বিচার হামলা মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
/ইউএমএইচ