পৈতৃক জেলা বগুড়ায় সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনটি যেন হয়ে উঠেছিল দুই ভিন্ন আবহের এক মিশ্র অভিজ্ঞতা- একদিকে জনসমাগমে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের উষ্ণ আতিথেয়তা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সেখানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। বক্তব্য দিতে গিয়ে মাঝে এক পর্যায়ে জনতার ভিড়ে কিছুটা হইচই শুরু হলে তা থামাতে তিনি হাস্যরসের আশ্রয় নেন। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলেন, ‘চুপ না করলে তো তোমরাই বক্তব্য দাও, আমি চলে যাই।’ তার এমন কথায় পুরো মাঠে হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন
বক্তৃতার ফাঁকে নিজের ব্যস্ততার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। খানিকটা অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে বলেন, এখনো খাওয়া হয়নি, নামাজও পড়া বাকি- এরপর আরও কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফিরতে হবে। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্য উপস্থিত জনতার কাছে বেশ আন্তরিক বলেই প্রতীয়মান হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। মঞ্চে তার উপস্থিতিও অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
পরে দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউজে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় খাবারের স্বাদ তুলে ধরতে বিশেষভাবে সাজানো মেন্যুতে ছিল নাজিরশাইল চালের ভাত, পাবদা ও শিং মাছের দো-পেঁয়াজা, পাতাসি মাছের চচ্চড়ি এবং দেশি মুরগির বিভিন্ন পদ। খাবারের শেষাংশে পরিবেশন করা হয় বগুড়ার বিখ্যাত আলু ঘাঁটি এবং দই, যা অতিথিদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ভোজ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও এসব খাবারের স্বাদ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এএডি/