বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সিভিল সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং শিক্ষক সমাজের জন্য একটি সম্মানজনক পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো উপহার দেওয়ার সব প্রস্তুতি থাকলেও কেবল সময়ের অভাবে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (২০ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয়ও এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে সময়ের সংকীর্ণতায় সেই পরিকল্পনা আর আলোর মুখ দেখেনি।
জনমনে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, সরকারি আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ, তাই তাদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। এই ধারণার বিরোধিতা করে শফিকুল আলম বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস আমলাতন্ত্রের খুব কাছ থেকে কাজ করার সুবাদে আমি হলফ করে বলতে পারি, এই ধারণাটি ঢালাওভাবে সত্য নয়। আমি দেখেছি, সরকারি কর্মচারীদের বিশাল একটি অংশ অত্যন্ত সৎ এবং দেশপ্রেমিক। অধিকাংশ কর্মচারীর কাছে সরকারি চাকরি মানে বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়, বরং মাস শেষে সপরিবারে ডাল-ভাত খেয়ে টিকে থাকার এক নিরন্তর সংগ্রাম।
দেশের একজন উচ্চপদস্থ আমলার মাসিক আয়-ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, একজন সিনিয়র সচিবের মোট বেতন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বাসা ভাড়া ও অন্যান্য কর্তনের পর নিট আয় দাঁড়ায় মাত্র ১ লাখ ২৬ হাজার টাকার মতো, যা মার্কিন ডলারে মাত্র ১ হাজার ডলারের সমান।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভারতের একজন সচিবের বেতন ও সুবিধার তুলনায় এই অঙ্কটি নেহাতই নগণ্য। এমনকি সচিবরা যে গাড়ি সুবিধা পান, তার আর্থিক মূল্যও মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি নয়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান বজায় রাখতে আমাকে প্রতি মাসে নিজের জমানো সঞ্চয় থেকে খরচ করতে হয়েছে। অনেকেই কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে মুখরোচক কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো বিদেশ সফরের ভাতা দিয়ে হাত খরচ চালানোই দুষ্কর।
পোস্টে শেষে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির বাজারে সীমিত আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে। একটি দক্ষ, সৎ এবং গতিশীল প্রশাসন গড়তে হলে তাদের জন্য জীবনধারণের উপযোগী বেতন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি আশা প্রকাশ করে আরও বলেন, বর্তমান সরকার আসন্ন বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। প্রজাতন্ত্রের সেবকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত।
/কহু