বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বর্তমানে সরকার মে মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া জুন-জুলাইয়ের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় (বিধি-৬৮) অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম হারে মূল্য সমন্বয় করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ২০২৬ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ডিজেলের মূল্য ছিল ৮২.০৫ ডলার, যেটি ২৭ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে দাঁড়ায় ৮৮.০৪ ডলার। ১৭ এপ্রিল ২০২৬ এর সবশেষ প্রকাশনা অনুযায়ী এটির মূল্য দাঁড়ায় ১৬২.৯৩ মার্কিন ডলার। আর ১ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ এর এখানে যদি গড় মূল্য বিবেচনা করা হয় তাহলে এটির মূল্য দাঁড়ায় ২০৮.৭৪ ডলার, যেটি মার্চে গড় মূল্য ছিল ১৮৬.৫৯ ডলার। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে ১৪২.৭৩ শতাংশ। অকটেন সেখানে ৭২.২৩ শতাংশ, জেট ফুয়েল ১৪৩.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
তিনি বলেন, সরকার গঠনের সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ছিল মাত্র সাত দিনের। এ অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ৮৮ ডলার থেকে বেড়ে ১৬০ ডলারের বেশি হয়েছে। অকটেন ও জেট ফুয়েলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার দ্রুত সংগ্রহ, সরবরাহ পুনর্বিন্যাস এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে মজুত পরিস্থিতি শক্তিশালী করেছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম ৪৫ দিন কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার মূল্য বৃদ্ধি থেকে বিরত ছিল। পরে বাস্তবতার নিরিখে সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়, যাতে ভর্তুকি, কৃষি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়।’
জ্বালানি সংকটের পেছনে কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুদকেও দায়ী করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় ‘ফুয়েল পাশ’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেক এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
/কহু