শাহবাগ থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ৩ দফা দাবি জানিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িত শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে শাহবাগ থানায় যান সাংবাদিকরা। সেখানে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা প্রদান করেন। এর প্রতিবাদ করলে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনায় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০-১২ জন সংবাদকর্মী এবং দুইজন ডাকসু নেতা আহত হন।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে টিএসসিতে সমিতির কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে সমিতির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এ ধরনের হামলা তাকে সংকটের মুখে ফেলেছে।
সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম জানান, হামলার সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ নীরব, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি এই ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাংবাদিক সমিতি তিনটি প্রধান দাবি পেশ করেছে- ১. হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; ২. জড়িত শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা; ৩. সারাদেশে সাংবাদিকদের কাজের নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলন আরও বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি মানা না হলে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
/কহু