টানা তাপদাহের পর প্রশান্তির বৃষ্টি, জনমনে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জনপদ বৈশাখের রোদে পুড়েছে। টানা তাপদাহে হাঁসফাঁস করার পর স্বস্তির বৃষ্টি দেখল

2026-04-26T23:51:59+00:00
2026-04-26T23:51:59+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
টানা তাপদাহের পর প্রশান্তির বৃষ্টি, জনমনে স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম 
টানা তাপদাহের পর প্রশান্তির বৃষ্টি। ছবি : সংগৃহীত
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জনপদ বৈশাখের রোদে পুড়েছে। টানা তাপদাহে হাঁসফাঁস করার পর স্বস্তির বৃষ্টি দেখল নগরবাসী। কিছু সময়ের বজ্রসহ বৃষ্টিতে অফিস ফেরত মানুষজন ঝামেলায় পড়লেও ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি মেলে কিছুটা। 

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকাল হতে না হতেই রাজধানী ঢাকার আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টির পর তা অল্প সময়েই থেমে যায়। পরে সন্ধ্যা না হতেই শুরু হয় বর্ষণ। আকাশ কালো করে বেশ কিছুক্ষণ তুমুল বৃষ্টি নামে; সঙ্গে চলে বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাত। 

ঢাকা ছাড়াও রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ছিল বজ্রপাত। তাতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং কোথাও-কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে পৃথক সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অফিসের বার্তায় বলা হয়, রোববার দুপুরের পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম/উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। 

এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে; পার্বত্য এই জেলায় তাপমাত্রার পারদ চড়েছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুর ও সিলেটের শ্রীমঙ্গলে; ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন নগরবাসী। তীব্র গরমে দুর্ভোগ ছিল চরমে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার আর ভাসমান মানুষ রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। টানা তীব্র গরমের পর ঢাকায় রোববার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে পুরো এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়, যেন হঠাৎ নেমে এসেছে মধ্যরাত। অথচ এ সময়ে সাধারণত থাকে প্রখর রোদ।


এরপরই শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া, সঙ্গে তীব্র শব্দে বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টি। আকস্মিক এ পরিবর্তনে নগরজীবনে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর থেমে থেমে মেঘডাকার শব্দ। যদিও তা অনেকটাই কমে এসেছে। সেই সঙ্গে কমেছে রাজধানীর তাপমাত্রা, অনেকটা। একেবারে শীতল করেছে পরিবেশ।

বৃষ্টিতে পথচারী, ফুটপাতের দোকানি আর হকাররা পড়েন বেকায়দায়। বৃষ্টির তোড়ে দোকান গুটিয়ে ফেলতে দেখা যায় তাদের। সড়কে থাকা মানুষ আশ্রয় নেন দোকান-পাট আর বহুতল ভবনের নিচে। তুমুল বর্ষণে কিছু সড়কের ধারে জমে যায় পানিও।

রাজধানীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা তানিশা আহমেদ। অফিস শেষ করে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় যখন নিচে নামলেন, বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে বাস পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয় তাঁকে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও গণপরিবহন না পেয়ে কিছুটা ভিজেছেনও তিনি।

তবে এটুকু ভোগান্তি হাসিমুখেই মেনে নিয়েছেন তিনি বলছিলেন, অনেক দিন ধরেই বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলাম। আজ বৃষ্টি আসায় বেশ স্বস্তি পেলাম। বাস পেতে বা যাতায়াতে কিছুটা কষ্ট হলেও মনের ভেতর এক ধরনের স্বস্তি কাজ করছে। এই বৃষ্টির খুব দরকার ছিল।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এলাকায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বৃষ্টি দেখে অনেকেই বলছেন, আল্লাহর রহমত।

ঢামেক এলাকা থেকে প্রাপ্ত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ায় গাছের ডালপালা দুলছে, রাস্তাঘাট পানিতে ভিজে একাকার হয়ে গেছে। অনেকে হঠাৎ বৃষ্টিতে পড়ে আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি করেন।

রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত থাকা আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, এমনিতেই এখন গরম কাল সন্ধ্যা হয় ৭টায়। বিকেল পাঁচটায় তীব্র রোদ থাকে, গরমের কারণে চলাফেরা করা যায় না। অথচ আকাশ এমন কালো হয়ে হয়েছে দেখে মনে হয় মধ্যরাত।

রোববার রাতে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ঢাকায় গেল কয়েক ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাতে আর তেমন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। 

কতটা কমেছে তাপমাত্রা
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীরের দেওয়া তথ্য, রোববার বেলা ৩টায় রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ৬টার পর তা হয়েছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলছিলেন, বৃষ্টি কিন্তু মোটামুটি গত রাত থেকেই শুরু হয়েছে উত্তরের জেলা রংপুরসহ আশপাশের কিছু এলাকায়।

আবহাওয়া অফিস অবশ্য বলছে, সোমবার বিকেলেও রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরতে পারে। আসলে এ মাসের প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে থেমে থেমে এভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাই দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই।

এফআর


  বিষয়:   তাপদাহ  প্রশান্তি  বৃষ্টি  জনমনে  স্বস্তি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: