প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা যোগদানের আদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-২ এর প্রাথমিক শিক্ষা অধিফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকেরা। অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সোমবার বেলা ১১টায় আন্দোলনকারী সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১২টার পর থেকেই নিয়োগ প্রার্থীরা বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে জড়ো হতে থাকেন। তখন তাদের ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। আর অবস্থান কর্মসূচি স্থলের চারপাশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো নোটিশ বা স্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। এর আগের দিন রোববার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে নিয়োগ প্রার্থীরা এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়।
আরও পড়ুন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিরা জানান, মহাপরিচালক বলেছেন, স্মারকলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। দ্রুত নিয়োগের ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন তিনি।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া রুনা আক্তার নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, আমরা সব প্রক্রিয়া শেষ করেছি-মেডিকেল, কাগজপত্র জমাসহ সব। তারপরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখন আর আশ্বাসে ভরসা নেই, লিখিত সিদ্ধান্ত চাই।
গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।
এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলা-ভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করে অধিদফতর। ফল প্রকাশের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও চাকরিতে যোগ দেওয়া হয়নি প্রার্থীদের। দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় ১৪ হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী ও তাঁদের পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
এএডি/