অন্তর্বর্তী সরকারের শিথিলতায় জঙ্গিদের মাথা চাড়া!

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয়

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যেখানে জঙ্গিবাদের উপস্থিতি ও তৎপরতা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে।

2026-04-28T00:32:33+00:00
2026-04-28T00:32:33+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
অন্তর্বর্তী সরকারের শিথিলতায় জঙ্গিদের মাথা চাড়া!
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যেখানে জঙ্গিবাদের উপস্থিতি ও তৎপরতা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে শৈথিল্য এবং ‘দেশে জঙ্গি নেই’ এমন প্রচার বাস্তবতাকে আড়াল করেছে, যার সুযোগে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নীরবে সংগঠিত হয়েছে। এমনকি তারা সভা-সমাবেশে বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে শীর্ষ স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে অনলাইনে সক্রিয় একটি শিশুকে আইএস-সম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটক হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারির পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে উগ্রবাদের প্রতি অনীহা একটি ইতিবাচক দিক, তবু সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা সতর্কতা, কঠোর নজরদারি এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী একাধিকবার ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি তখন আরও বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারা হচ্ছে, কীসের জঙ্গি।’ তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দাবি করেছিলেন, দেশে জঙ্গি নেই। যদিও উগ্রবাদীদের অবাধ বিচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেছেন, জুলাই অভুত্থানের পর গত দেড় বছরে জঙ্গি বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শিথিলতায় জঙ্গিদের মাথাচাড়া!

একেবারেই মনোযোগ দেওয়া হয়নি। উপরন্তু ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে দায়িত্বশীল মহল থেকে যে প্রচার চালানো হয়েছিল তা জঙ্গিদের উত্থানে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই জঙ্গি বা উগ্রবাদকে পছন্দ করেনি। তাই এ দেশে কখনোই জঙ্গিরা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আরেক সাবেক আইজিপি বলেন, জঙ্গিরা কখনোই নির্মূল হয় না। তাদের সবসময় ট্রাকে (নজরদারি) রাখতে হয়। জঙ্গিদের মধ্যে যারা কারাগারে বন্দি আছে কিংবা যারা জামিনে ছাড়া পেয়েছে তাদের গতিবিধিও সবসময় নজরদারিতে রাখতে হয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে (অর্ন্তবর্তী সময়) তা একেবারেই করা হয়নি। ফলে জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তৃতির জন্য সুবিধাজনক অবস্থান পেয়েছিল। 

করণীয় বিষয়ে সাবেক এই পুলিশ প্রধান বলেন, জঙ্গিদের বিষয়ে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার পরিবর্তন হলে পূর্বের সব কর্মকর্তার কর্মক্ষেত্রও পরিবর্তন করে ফেলা হয়, যাদের মধ্যে অনেক মেধাবী কর্মকর্তা থাকেন। তিনি বলেন, একটি সরকারের সবাই কখনোই খারাপ হতে পারে না। যারা ভালো তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে যথাযথ জায়গায় কাজে লাগাতে পারলে দেশের জন্যই মঙ্গল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং দেশে রাজনৈতিক মতবিরোধ সেইসঙ্গে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি কারণে দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব বিদ্যমান। বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে যে প্রচার চালানো হয়েছিল তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতক সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যখন একই বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য দেওয়া হয় তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বিধা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়, যা একেবারেই অনুচিত। তিনি আরও বলেন, শুধু আইন দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল দৃষ্টিভঙ্গির সুযোগেই মূলত দেশে উগ্র মৌলবাদীদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সামনে দেশে বড় সমাবেশ-অনুষ্ঠানকে বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু করে উগ্রপন্থিরা সংগঠিত হচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এরই মধ্যে কয়েকবার এমন আশঙ্কা করে তৈরি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর পরই নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট সবাই।

নাম না প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দেড় বছর ধরে দেশে উগ্রবাদী নেই, জঙ্গি নেই বলে যা বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। এ ধরনের কথা বলে দেড় বছর ধরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সংগঠনটি অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা মোকাবিলার উদ্যোগ প্রসঙ্গে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। ডিএমপির সিটিটিসি বিভাগের প্রধান যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেছেন, এটি আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ, যা প্রকাশ করার বিষয় নয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে আমরা কাজ করছি। সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তিনি সবাইকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন, সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, ইনশাল্লাহ আমরা এটি মোকাবিলা করতে পারব। কিছু পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার : দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারির পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, টার্মিনাল এলাকা এবং সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দফতর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনো কিছু অস্বাভাবিক দেখামাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। 

পলাতক জঙ্গিরা বাড়াচ্ছে ঝুঁকি : গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সম্প্রতি হামলা পরিকল্পনায় থাকা জঙ্গিদের মধ্যে কারাগার থেকে পলাতক জঙ্গিরা রয়েছে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে ও পরে দেশের কয়েকটি কারাগারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যায় অনেক কারাবন্দি ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। যাদের মধ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার ছিল ৭৯ জন। এ ছাড়া ৯৮ জন ছিল যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

পলাতক এসব জঙ্গি উগ্রবাদ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ সময়ের আলোকে বলেন, পলাতক এসব জঙ্গিকেও দ্রুত গ্রেফতারে জোরালো তৎপরতা চালাতে হবে।
দেশে জঙ্গি সংগঠনের সংখ্যা কত : জঙ্গিবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, দেশে বিভিন্ন ছদ্মনামে বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। এর সংখ্যা ২৫ টিরও বেশি। এ ছাড়া দেশের বাইরে থেকে লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মতো জঙ্গি সংগঠন সংশ্লিষ্টরাও দেশে প্রবেশের তথ্য পেয়েছেন তারা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, দেশে এলইটি ও টিটিপির এজেন্টার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গোয়েন্দা সংস্থা বুঝতে পারে, দেড় বছর ধরে জঙ্গি না থাকার যে বয়ান তৈরির চেষ্টা চলেছে, তা আসলে সঠিক নয়। 

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বাংলাদেশে বেশ কিছু সংগঠনকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে নিষিদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), আল্লাহর দলসহ শাহাদাত-ই-আল হিকমা, হরকাতুল জিহাদ (হুজি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ও হিযবুত তাহরির উল্লেখযোগ্য। তবে নিষিদ্ধ হলেও এসব নিষিদ্ধ সংগঠন সংশ্লিষ্টরা ভিন্ন নামে বর্তমানে সংগঠিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দরা।

সম্প্রতি আনসার আল ইসলামের কর্মীরা যে আস শাহাদাত নামের সংগঠন করেছিল তাদের অনেককে প্রথমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং সর্বশেষ কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

অনলাইনে সক্রিয়তা : হলি আর্টিসান জঙ্গি হামলার পর জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা এবং জঙ্গিদের কার্যক্রম নিয়মিত নজদারির ভেতর রাখায় নিয়ন্ত্রণে ছিল তাদের তৎপরতা। কিন্তু বিগত দেড় বছরে নজদারির অভাবে জঙ্গিরা অনলাইনে তাদের কর্মপরিধি ব্যাপক বিস্তার ঘটায়। শুরু করে সদস্য সংগ্রহ অভিযান। তারা এতদিন কিশোর-তরুণদের টার্গেট করলেও গত কয়েক বছর ধরে তারা শিশুদেরও টার্গেট করে সদস্য সংগ্রহ শুরু করে।

সিটিটিসি ও র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, অনলাইনে এখনও জঙ্গি সংগঠনগুলোর দাওয়াতি কার্যক্রম চলছে। সদস্য সংগ্রহ ও উগ্রবাদী প্রচারও চলছে। সাংগঠনিক যোগাযোগের জন্য নিত্যনতুন অ্যাপস ব্যবহার করছে তারা। তুরস্কে থেকে চালাচ্ছে অনলাইনভিত্তিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠনগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অ্যাপস ব্যবহার করছে। ফলে এসব সংগঠনের কোনো কোনো সদস্য গ্রেফতারের পর তাদের অ্যাপস সম্পর্কে জানতে পারলেও সেখান থেকে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যায় না। কারণ সেখানে কোনো রেকর্ড থাকে না।

গত ৩ এপ্রিল নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এক শিশুকে হেফাজতে নেয় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। হেফাজতে নেওয়ার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি বলেন, শিশুটি অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয়। সে দাওয়াতুল ইসলামের (আইএস) পক্ষে উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করত, সদস্য নিয়োগ করত, বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল বিতরণ করত এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত।

২০২৪ সালে সিটিটিসি একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী জঙ্গিবাদে জড়ানো ৬৮ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৩৪ বছর। আর ৮২ শতাংশই জঙ্গিবাদে জড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শুধু অনলাইনেই নয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে বলে জানা যায়।

সতর্কতা জারি : এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় সতর্কবার্তা জারি করে পুলিশ সদর দফতর। মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, দেশে সম্ভাব্য হামলা নিয়ন্ত্রণে ওই চিঠিটি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সারা দেশে রেঞ্জ ডিআইজি এবং সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর ইউনিটপ্রধানদের কাছে পাঠানো এ সংক্রান্ত এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে সারা দেশে সন্দেহজনক জঙ্গিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।


  বিষয়:   জঙ্গিবাদ  অন্তর্বর্তী  সরকার  আইএস 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: