গত তিন দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। মঙ্গলবার সকালেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়। তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম আর তাপপ্রবাহের মধ্যে এই বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিয়েছে নগরজীবনে। কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি বৃষ্টিতে অফিসগামী মানুষের শুরুটা কিছুটা ভোগান্তির হলেও গরম থেকে মিলেছে স্বস্তি। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকার মাঠের আধাপাকা ও পাকাধান, ভুট্টা, পাট ও শাকসবজির জমি পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ায় চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা। আবার বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই ব্যাহত হচ্ছে।
গত রোববার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগে টানা এক সপ্তাহ রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং এই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে রোববারের বৃষ্টির পর থেকে তাপপ্রবাহ কমে আসতে শুরু করে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে দেশের সমুদ্র ও নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টি ও কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকায় বুধবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া খুলনা, বরিশাল এবং পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।