৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি না থাকলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান আবেগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে জড়িত। এই সংবিধান বহুবার সংশোধন করা হয়েছে, তবুও এটি দেশের নিজস্ব সংবিধান। রাষ্ট্রপতি যেই হোন না কেন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের স্বার্থে সেই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতি না থাকলে দেশে অরাজকতা দেখা দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত ১৬ বছরের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ যেমন জাতির চিন্তা, মনন ও মজ্জায় গেঁথে আছে, তেমনি গত ১৫-১৬ বছরের সংগ্রামের ইতিহাসও জনগণ হৃদয়ে ধারণ করে। তিনি বলেন, কেউ যদি ১৯৭১ কে কটাক্ষ করে বা খাটো করার চেষ্টা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না কারণ ১৯৭১ বাংলাদেশের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই বৈঠক হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত নির্বাচন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এ নিয়ে অপপ্রচারকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
বিএনপি সংস্কারের পক্ষে এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়, যা সঠিক নয়। বরং শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে সংস্কারের সূচনা করেছিলেন। গণতন্ত্রের জন্য বেগম খালেদা জিয়া যে সংগ্রাম করেছেন, তা এশিয়া উপমহাদেশে বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিজীবনের সরলতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান ভাঙা সুটকেস রেখে গিয়েছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন ভাড়া বাড়িতে থেকেছেন। তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পতাকা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।