স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে কোনো বিশেষ দলের ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলের গঠিত ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, এতে হয়তো ‘উজিরে খামখা’ বা মন্ত্রী সেজে থাকার সুখ পাওয়া যায়, কিন্তু প্রকৃত দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব নিয়ে বিরোধী দল এনসিপির অবস্থানের সমালোচনা করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, একটি দল ৭১-এর চেতনা বিক্রি করতে করতে নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে নতুন করে ব্যবসার চেষ্টা চলছে। জুলাই বিপ্লব এ দেশের সব মানুষের ত্যাগের ফসল।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামে রক্তের পথ মাড়িয়ে আজ আমরা এই অবস্থানে এসেছি। এই ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা করবেন না। আওয়ামী লীগ আমলে দরিদ্রদের হক যেভাবে ধনীরা লুট করেছে এবং যেভাবে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, সেই বাস্তবতাকে ভুলে গিয়ে কেবল চেতনার রাজনীতি করলে দেশ এগোবে না।
তিনি বিরোধী দলকে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতি মেনে জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান করাই হবে প্রকৃত রাজনীতি। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই সব সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার কথা থাকলেও তা অবারিত নয়। বর্তমানে দেশে-বিদেশে বসে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কুৎসা রটানো হচ্ছে, তাতে আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার নামে এই কলঙ্কিত ধারা বেশি দূর এগোতে দেওয়া হবে না। গালিগালাজের প্রতিযোগিতায় যারা চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তাদের কঠোর বাধানিষেধের আওতায় আনতে আইন মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।