সব মতবিরোধ আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

সংসদে বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র এগিয়ে যায় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থে যেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে,

2026-05-01T02:09:51+00:00
2026-05-01T02:09:51+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সব মতবিরোধ আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ২:০৯ এএম 
সংসদে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
সংসদে বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র এগিয়ে যায় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থে যেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে, সেসব মতবিরোধ আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভন। কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদ ও সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

অন্যদিকে সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং ভুল দেখলে বিরোধিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সব অপরাধের বিচার দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে বিরোধী দল ও সরকারি দলের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। সংসদে বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। যেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে সেসব বিষয়ে দেশের স্বার্থে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। 

তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত শুধু সেচের জন্য নয়, পানির সংকট কাটাতেই খাল খনন করা হচ্ছে। বাজেটের জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাখতে চায় সরকার। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে দেওয়ার সুযোগ এখনও আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপিয় সহযোগিতা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে। জামায়াত, এনপিপিসহ সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করা হবে। ইতিহাস দিয়ে আলাপ করে বেকারত্ব সমাধান করা যাবে না। দেশের মানুষ রাজনৈতিক বিতর্ক চায় না দেশের মানুষ সেবা চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটি বসাতে মোটেই আরাম না। প্রতি মুহূর্তে আগুনের তপ্ত উত্তাপ আসে। সবসময় পপুলার কথা বলা যায় না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, পপুলার সিদ্ধান্ত নয়।’

তিনি বলেন, ‘আগামীর অধিবেশনে অলোচনা করা হবে কত দ্রুত বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারব। কার বেশি কর্মসংস্থান করতে পারি, সেটিই হবে আলোচ্য বিষয়। 

সরকারপ্রধান বলেন, ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে চলা সরকার চলতে হলে দেখের স্থিতিশীলতা রাখতেই হবে। এ জন্য বিরোধী দল ও সরকার দল মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সংসদে আলোচনার বিষয়বস্তু হবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার। বিভিন্নভানে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত  হওয়ায় কারণে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারিনি। 


অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে যতগুলো অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে, যতগুলো খুন, গুম হয়েছে, যড় জায়গায় মানবতা লঙ্ঘিত হয়েছে, ধর্ষণ হয়েছে এর প্রতিটি অপরাধের বিচার করতে হবে। সেই বিচার ওসমান আদি পর্যন্ত আসতে হবে। কিন্তু বিচারের দিকে তাকিয়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না বিচারের অঙ্গনে কি সবুজ পতাকা উঠছে না লাল পতাকা উঠছে, নাকি কালো পতাকা উঠছে? বুঝতে পারছি না। আমরা একটা সবুজ পতাকা দেখতে চাই।

শফিকুর রহমান বলেন, জাতিকে আমরা হতাশ করব না জাতির প্রত্যাশার আলোকে মজলুমের পাওনা তার কাছে পৌঁছে দেব। না হলে শহিদরা, শহিদদের আত্মা তাদের আপনজন, গুমের শিকার লোকগুলো তাদের আপনজন, ধর্ষণের শিকার হয়ে যে কেটেছে যার চোখের পানিতে হয়তো একটা নালা নদী তৈরি হয়ে গেছে, তাদের আত্মার অভিশাপের ভার পার্লামেন্টের বহন করা ঠিক হবে না। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক বন্ধু একাত্তরের সংবিধান সম্পর্কে তাদের হোল হার্টেড রেসপেক্ট তারা পে করেন। আমি পারিনি। এই যে যারা করেন তারা এখন সরকারি ট্রেজারি বেঞ্চে অনেকে বসে আছে। আপনিও পারেন না, কারণ বাহাত্তরের সংবিধানটাকে পরিবর্তন করে দিয়ে গেছেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বাহাত্তরের জায়গায় বক্তব্য রাখেননি, যে জায়গাগুলা তার দৃষ্টিতে সংস্কার মেরামতের দরকার ছিল তিনি করেছেন। তা হলে এখন কেমন করে আমরা বলতে পারি যে, আমরা বাহাত্তরের সংবিধান চাই।

শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের এমনভাবে বলা হয় আমরা যেন সংবিধানই মানি না। তো সংবিধান না মানলে এখানে
যত সময় পর্যন্ত দেশে বিদ্যমান সংবিধান আছে আমরা তার এলাম কেমনে, বসলাম কেমনে? এই দেশে বসবাস করি কেন? বিরুদ্ধে আন্দোলন করব, পরিবর্তনের জন্য একজন নাগরিক হিসেবে এটিই আমার দায়িত্ব। আমি আমার দাবি অব্যাহতভাবে জানিয়ে যাব, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দাবি বাস্তবায়ন না হবে। তবে হ্যাঁ আমার দাবিটা যদি যৌক্তিক না হয়, তা হলে এটিকে আমি যেকোনো সময় এবান্ডন ঘোষণা করতে পারি তাতেও কোনো সমস্যা নেই।

শফিকুর রহমান বলেন, দখলবাজি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ইনফাইটে কতগুলা মূল্যবান জীবন ধরে গেছে। আমি তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। তারা তো এ দেশেরই সন্তান। এভাবেই মরতে হবে কেন? হালাল রুজির ৯৯ ভাগ মানুষের জন্য থাকলে এই এক পারসেন্ট মানুষের হাতে কেন ৯৯ ভাগ মানুষ জিম্মি হবে, এদের যন্ত্রণা থেকে দেশটাকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উন্নতি আমি এগুলো বুঝি না। যে সরকার আসে এসেই বলে যে আগের চাইতে এখন অবস্থা ভালো, আগেরটা কী সেটিও বুঝি। বর্তমানে আমরা একটা নিরাপদ বাংলাদেশে বসবাস করতে চাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব বাংলাদেশের সব জায়গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একই ধরনের। কিন্তু যে জায়গাটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বেশি ভার্নারেবল সেই জায়গায় যেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগেই নজর দেওয়া হয়।

এফআর


  বিষয়:   মতবিরোধ  আলোচনা  সমাধান  সম্ভব  প্রধানমন্ত্রী  ডা. শফিকুর রহমান 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: