টেলিকম খাতের ব্যয় কমাতে অবকাঠামো শেয়ারের ভাবনা

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যয় কমাতে অবকাঠামো শেয়ারিং জোরদারের কথা ভাবছে বিটিআরসি ও অংশীজনরা। অবকাঠমো শেয়ারিং চালু হলে একদিকে সেবা প্রদানে খরচ

2026-05-01T05:17:29+00:00
2026-05-01T05:18:54+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
টেলিকম খাতের ব্যয় কমাতে অবকাঠামো শেয়ারের ভাবনা
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:১৭ এএম  আপডেট: ০১.০৫.২০২৬ ৫:১৮ এএম
প্রতীকী ছবি
টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যয় কমাতে অবকাঠামো শেয়ারিং জোরদারের কথা ভাবছে বিটিআরসি ও অংশীজনরা। অবকাঠমো শেয়ারিং চালু হলে একদিকে সেবা প্রদানে খরচ কমবে অন্যদিকে গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিসহ সারা দেশে দ্রুত যেকোনো সার্ভিস রোলআউট সম্ভব হবে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অবকাঠামো শেয়ারিং কি?
টেলিযোগাযোগ খাতে সক্রিয় অবকাঠামো শেয়ারিং বা অ্যাক্টিভ শেয়ারিং হলো একাধিক মোবাইল অপারেটর বা টেলিকম সেবাদাতার মধ্যে নেটওয়ার্কের ইলেকট্রনিক বা সক্রিয় সরঞ্জামগুলো যৌথভাবে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া। এটি কেবল টাওয়ার বা জায়গা শেয়ার করার (প্যাসিভ শেয়ারিং) চেয়েও উন্নত একটি ব্যবস্থা। 

সক্রিয় শেয়ারিংয়ের মূল দিকগুলো হলো– এর আওতায় রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক, বেস ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (বিটিএস), নেটওয়ার্ক এবং ট্রান্সমিশন সিস্টেম শেয়ার করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পরিচালনা ব্যয় এবং মূলধনী ব্যয় হ্রাস করা ও সেবার মান উন্নত করা। এর সুবিধা হলো– এর মাধ্যমে অপারেটররা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে। 

বাংলাদেশে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি অ্যাক্টিভ শেয়ারিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। টাওয়ারের পাশাপাশি অ্যান্টেনা এবং সক্রিয় সরঞ্জাম শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেটের মান উন্নত করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

গত মঙ্গলবার খাত সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দিনব্যাপী ‘টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো শেয়ারিং’ শীর্ষক কর্মশালা করেছে বিটিআরসি। কর্মশালায় দেশের সরকারি-বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, ন্যাশনওয়াইড টেলিকম ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন), টাওয়ার কোম্পানি, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস লিমিটেড, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কোম্পানি, আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম অব বাংলাদেশ, অ্যাসোসিয়েশন অব আইসিএক্স অপারেটরস অব বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, টেলিকম ইকুইপমেন্ট ভেন্ডরস এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞসহ মোট ১৩০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার চারটি সেশনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ১১টি বিষয় উঠে আসে। 

সরকারের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে টেলিকম নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখে স্থাপনা তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। টেলিকম ও আইসিটির বাইরেও ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ককেও বিবেচনায় নিয়ে তা গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা টেকসই ও সুশৃঙ্খল রাখার স্বার্থে অবকাঠামো শেয়ারিংয়ে বিদ্যমান কোনো অপারেটর এক্সিট করতে চাইলে তা কীসের ভিত্তিতে হবে তার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। গেটওয়ে লেভেলে আইআইজিগুলোর পিয়ারিং করলে লোকাল ডেটা লোকালি ব্যবহৃত হবে, অন্য দেশ ঘুরে দেশে আসতে হবে না ফলে ‘ডি-ডস অ্যাটাক’-এর মতো বিষয়গুলোর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। সাইবার সিকিউরিটির বিষয়টি বিচেনায় নিয়ে ‘অ্যাক্টিভ ইনফ্রস্ট্রাকচার শেয়ারিং’ এর ক্ষেত্রে ডেটার লজিক্যাল সেপারেশনের বিষয়টির মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে সব জায়গায় সব অপারেটর আগ্রহী হবে না, সে ক্ষেত্রে রেগুলেটরকে সমন্বয় করতে হবে। 

আইএসপিএবির ধানমন্ডি প্রজেক্টের মতো সারা দেশে জয়েন্ট ভেন্টার করে উক্ত মডেলে বাস্তবায়ন করতে পারে। দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন অপারেটর অবকাঠামো তৈরি করা হবে ও সব অপারেটর তা শেয়ার করতে পারে এ রকম বিধান প্রয়োজন হবে। ফাইবার ব্যাংক করা যেতে পারে, যা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অপারেটররা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।


বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ (অব.) বলেন, অ্যাক্টিভ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও উঠে আসবে। টেলিকম স্টেকহোল্ডাররা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে যেহেতু বাস্তব প্রতিবন্ধকতাগুলো বেশি অবগত থাকেন, সেহেতু অ্যাক্টিভ শেয়ারিং গাইডলাইন কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে অংশীজনদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, দেশের শতভাগ এলাকা নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায় এলেও ফাইভ-জি চালু এবং গ্রাহককে মানসম্মত ভয়েস ও ডাটা সেবা নিশ্চিতকরণের জন্য অ্যাক্টিভ শেয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

দেশে ফাইভ-জি চালু করতে প্রচুর বিনিয়োগ ও রিসোর্স মবিলাইজেশনের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, টেলিকম অবকাঠামোয় অ্যাক্টিভ শেয়ারিংয়ে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ উভয় দিক রয়েছে তাই সেসব বিষয় মাথায় রেখে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে অ্যাক্টিভ শেয়ারিং গাইডলাইন প্রস্তুত করা হবে। অ্যাক্টিভ শেয়ারিং নিরাপদ ইকোসিস্টেম, সুস্থ প্রতিযোগিতা, টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে অবদান রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাওয়ার কোম্পানির পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টেলিকম অবকাঠামো শেয়ারিংয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। তারা জানান, শেয়ারড টেলিকম কাঠামোর মাধ্যমে স্বল্প খরচে কানেক্টিভিটি সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও টেলিকম প্রবৃদ্ধি বাড়বে। অবকাঠামো শেয়ারিং চালু হলে একদিকে সেবা প্রদানে খরচ কমবে অন্যদিকে গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিসহ সারা দেশে দ্রত যেকোনো সার্ভিস রোলআউট সম্ভব হবে।

এনটিটিএন অপারেটরদের প্রতিনিধি জানান, অ্যাক্টিভ অবকাঠামো শেয়ারিং কার্যকর রাখতে হলে রেগুলেটরকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অ্যাক্টিভ শেয়ারিং মূলধনী ব্যয় কমানো এবং এবং পরিষেবা সম্প্রসারণে গতি বাড়ালেও একটি বহু-স্তরীয় লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় এটি বেশ চ্যালেঞ্জিংও বটে।

মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যে প্যাসিভ শেয়ারিংয়ের (টাওয়ার, ছাদের স্পেস, বিদ্যুৎ অবকাঠামো) মাধ্যমে সেবা প্রদানের ফলে পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফাইভ-জির জন্য অ্যাক্টিভ শেয়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, কার্যকরী অ্যাক্টিভ শেয়ারিং বাস্তবায়নের জন্য পারস্পরিক ফ্রেমওয়ার্ক, সমন্বিত প্রনোদণা ও সমষ্টিগত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ প্রয়োজন।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, সামগ্রিকভাবে সবার স্বার্থ নিশ্চিত করে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো শেয়ারিং গাইডলাইন প্রস্তুত করা হবে।

এফআর


  বিষয়:   টেলিযোগাযোগ খাত  ব্যয়  অবকাঠামো  শেয়ার  ভাবনা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: