আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণ এবং সংশোধিত শ্রম আইন ২০২৬ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠন দুটির সভাপতি মোসা. সুলতানা বেগম। বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী কমিটির সভাপতি রোজিনা আক্তার সুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি ইউসুফ শেখ, প্রচার সম্পাদক মো. তাহেরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ও নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন হোসাইন এ্যানি, কার্যকরী সদস্য অঞ্জলি, গাজীপুর কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক মৌসুমী হাওলাদার, আহমেদ ফ্যাশন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সুমন হোসেন মোল্লা, যমুনা ফ্যাশন ওয়্যার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন ও প্রান্ত মিয়া প্রমুখ।
সংহতি বক্তব্য দেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসাইন, উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু এবং কর্মজীবী নারীর প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে বক্তারা গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গার্মেন্টস শিল্পে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণ, আইএলও কনভেনশন ১৯০ বাস্তবায়ন ও ১৮৯ অনুস্বাক্ষর, ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি আইনগতভাবে নিশ্চিতকরণ ও কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, ট্রেড ইউনিয়ন, সেফটি, অ্যান্টি-হ্যারাসমেন্ট ও ফায়ার কমিটির কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কমিশন গঠন, ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ এবং বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা।
এছাড়া শ্রমিকদের আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, ন্যায্য রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি চালু করা এবং জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবহন খাতে বরাদ্দের দাবিও জানান বক্তারা।
সমাবেশ শেষে লাল পতাকা সম্বলিত একটি রঙিন র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাইকোর্ট মোড়, তোপখানা রোড ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।