সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব এবং ঘরোয়া সংবর্ধনা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) দুপুরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও কাশিপুর এলাকায় নদী খনন কর্মসূচি পরিদর্শনে গেলে গ্রামবাসী তাকে ‘দুলাভাই’ বলে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান।
সরকারপ্রধানকে একনজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে বাসিয়া নদীপাড়ে ভিড় জমান শত শত মানুষ। এ সময় জনতা মুহুর্মুহু ‘দুলাভাই, দুলাভাই, স্বাগতম, শুভেচ্ছা’ বলে স্লোগান দিতে থাকলে এক আনন্দঘন ও অনানুষ্ঠানিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টিভেজা দুপুরের এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী গ্রামবাসীর স্লোগানের জবাবে হাস্যরসে মেতে ওঠেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কৌতুকের ছলে বলেন, ‘দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে তো দুলাভাই যাবে গিয়া। যাই আমি? কথা বলব, না যাব?’ তার এই রসিকতায় উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে।
পরে সবাই নীরব হলে তিনি আবারও কৌতুক করে বলেন, ‘আমি কথা বললে তাহলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শুনতে হবে... কথা ঠিক আছে। আচ্ছা ঠিক আছে।’ উল্লেখ্য, তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুরে হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে নিজেদের জামাতা বা দুলাভাই হিসেবেই সম্বোধন করে থাকেন।
শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে আয়োজিত এই খনন কাজ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন গ্রামবাসী পুনরায় ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। প্রধানমন্ত্রীও হাস্যোজ্জ্বল মুখে হাত নেড়ে সবার অভিবাদনের জবাব দেন।
যদিও বাসিয়া নদীর এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন না, তবে এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। দুর্যোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং স্থানীয়দের সঙ্গে তার সহজ ও হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাসিয়া নদী খনন প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু করা হয়েছে, যা সেচ ও পানি নিষ্কাশনে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতা—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।