আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নতুন প্রজন্মের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সারা দেশে একযোগে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তরুণ ও শিশু কিশোরদের উৎসাহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই প্রজন্মের হাতেই নিরাপদ। তিনি চান দেশের তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বজুড়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করুক। সরকার ও রাষ্ট্র সব সময় তরুণদের পাশে থাকবে বলে তিনি এই অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে উপস্থিত হন এবং ৫টা ৮ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরাই। আমাদের সময় প্রায় শেষ, আমরা কেবল ভিত্তি গড়ে দিয়ে যাচ্ছি, পরবর্তী ধাপে তোমাদেরই এগিয়ে নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, আজকের এই খুদে অ্যাথলেটদের মধ্য থেকেই তৈরি হবে আগামীর আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, জননেতা এমনকি প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল হাজার হাজার খুদে ক্রীড়াবিদ।
ক্রীড়াঙ্গনের এই নতুন উদ্যোগটি মূলত আশির দশকের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে সাজানো হয়েছে। ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করা সেই অনুষ্ঠানটি একসময় দেশে বহু সাংস্কৃতিক প্রতিভা তৈরি করেছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক পর সেই একই নামে এবার ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রতিভা অন্বেষণের যাত্রা শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে।
এবার মঞ্চের পরিবর্তে খেলার সবুজ মাঠে শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব বিল গেটস বাংলাদেশ সফর করেছিলেন, যা প্রেস সচিবের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।
দেশের ক্রীড়া ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই মেগা ইভেন্টটি আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে যা আগামীর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করবে।
সময়ের আলো/টিএইচ