দেশের সব বিভাগেই বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। রোববার (৩ মে) আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, সক্রিয় লঘুচাপের প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
বর্তমানে বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জনপদে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। সারা দেশে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী এক সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে জনপদগুলোতে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সপ্তাহজুড়ে এই বৃষ্টিপাতের ধারা বজায় থাকলেও পরবর্তী সপ্তাহ থেকে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (৪ মে) দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে।
বৃষ্টির কারণে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের ১৩টি জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসও রয়েছে, যা নৌ-চলাচল ও কৃষিখাতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে যে মেঘমালা তৈরি হয়েছে, তা স্থলভাগের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় বৃষ্টির তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঢাকার বাতাসে গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পরেও দূষণ না কমায় আবহাওয়ার এই বর্তমান চিত্র নাগরিক জীবনের জন্য মিশ্র অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করেছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের মতে, বৈশাখ মাসের এই স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া মৌসুমি বায়ু আসার আগাম ইঙ্গিত দেয়। তবে অতি ভারি বর্ষণের ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।