বিখ্যাত মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাগামী ‘গ্লোবাল ফ্লোটিলা’র ২০টিরও বেশি বেসামরিক জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনীর অবৈধ হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এক ভিডিও বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, গত ১ মে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ২০০ জন আন্দোলনকারীকে গাজা থেকে ১ হাজার কিলোমিটার দূরে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
থুনবার্গের দাবি অনুযায়ী, আটককৃতদের মধ্যে অন্তত দুজন বর্তমানে ইসরায়েলি হেফাজতে রয়েছেন এবং সেখানে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানানোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে তিনি সুইডেন, স্পেন ও ব্রাজিলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্রেটা থুনবার্গ জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় অনেক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন এবং তাদের গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের অনেকেরই হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়েছে। তিনি এই অভিযানে ইসরায়েলি ও গ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ছিল বলে দাবি করেন।
থুনবার্গের মতে, কোনো অভিযোগ ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের যেভাবে বন্দি রাখা হয়, এই আন্দোলনকারীদের আটক করার বিষয়টি সেই বৃহত্তর দমনপীড়নেরই অংশ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তিনি অভিহিত করেছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তি এবং তাঁদের ওপর চালানো নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘জঘন্য’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, একটি ‘অপারথাইড’ বা বর্ণবাদী রাষ্ট্রকে যেভাবে ইউরোপীয় জলসীমায় টহল দেওয়ার, নৌকা জব্দ করার এবং মানুষ অপহরণ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে তা অগ্রহণযোগ্য।
আলবানিজ এই ঘটনাকে সরাসরি ‘জিম্মি করা’ এবং ‘অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ থেকে আটককৃত সকল জিম্মি এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের এখনই মুক্তি দিতে হবে।
আটককৃত দুই আন্দোলনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে আলবানিজ জানিয়েছেন যে, তাদের নাম সাইফ আবু কেশেক এবং থিয়াগো আভিলা। ১ মে মাঝসমুদ্র থেকে তাদের ধরে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রোববার (৩ মে) তাদের আদালতের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এই আন্দোলনকারীরা গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষে জাহাজে করে যাচ্ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি কেবল একটি মানবিক সহায়তা মিশনকে বাধা দেওয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও মানবাধিকারের নগ্ন অবমাননা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর চাপ ছাড়া বন্দি এই কর্মীদের মুক্তি পাওয়া দুরুহ হতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই