সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষে সারাদেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও মহাসড়কের আশপাশে কুইক রেসপন্স টিম গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ টিমে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রোববার (৩ মে) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সংঘটিত একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রিটকারী বাম পাশের পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনায় ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মালিকানাধীন দ্বিতল ‘সেন্টমার্টিন পরিবহন’-এর বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন এ পরিবহনটির (ঢাকা মেট্রো-বি-১২-২৮৮১) রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারিকে বিবাদী করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো যেন নির্ধারিত গতিসীমার বাইরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবহনে দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত কিউআর কোড স্থাপনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, উক্ত দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন রিটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিট আবেদনে ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইফাদ মোটরসের মালিকানাধীন ‘সেন্টমার্টিন পরিবহন’ (ঢাকা মেট্রো-বি-১২-২৮৮১) দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পাশের জমিতে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যান।
দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বাসটির ভেতরে অন্ধকার নেমে আসে এবং আতঙ্কিত যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য যাত্রীদের সহায়তায় সবাইকে বাস থেকে উদ্ধার করা হয়।