ঢাকায় যানজট নিরসনে সরকার অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমরা অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি এসব সমন্বয়ের জন্য। যেমন বাসস্ট্যান্ডগুলো আমরা শিফটিং করছি। গ্যাপ টাইমের মধ্যে বাসগুলো কোথায় থাকবে— সেই সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সেটার একটা ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড নিয়ে, ফুলবাড়িয়ারটা নিয়ে এবং আমরা এই বাসস্ট্যান্ডগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাব, সেই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো অ্যাকুইজিশন হবে, ডেভেলপমেন্ট হবে, এগুলো সারফেসে আসছে। দৃশ্যমান হতে কিছু সময় লাগবে। কিন্তু আমরা পরিকল্পনাটা এখন ফাইনালাইজ করছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবা সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে। এসব কাজে সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার কাজও চলছে। এতে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে বলে দাবি করেন তিনি।
সড়কের নিচে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবার জন্য সমন্বিত ইউটিলিটি ডাক্ট বা লাইন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করবে। রাতারাতি বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করি, একদিন এমন ব্যবস্থায় যেতে পারব।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসব যানবাহনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিমালাও করা হয়েছে। অবৈধভাবে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে যেসব চার্জিং পয়েন্ট তৈরি হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বেশ কিছু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
তবে সরকার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা বন্ধ করতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা চাই না রাতারাতি অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাক। তাই বিষয়টিকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে।
মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ছোট তিন চাকার যান মূল সড়কে চলার কথা নয়। বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করছে এবং সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে তাদের কিছু কিছু অপতৎপরতা চালায়, সেটা দৃশ্যমান। তার অংশ হিসেবে ফজরের নামাজের পরেও মাঝেমধ্যে দুয়েকটা মিছিল করে ভিডিও-টিডিও করে, সেটা আমরা দেখেছি অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে। গুলশানে যেটা হয়েছে বেলা ১১টায় জুমার নামাজ আদায় করার নাম দিয়ে ওখানে কিছু লোক জড়ো হয়ে হয়তো মিছিল করেছে। এখানে আমরা পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। হয়তো আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ছিল কিন্তু আমাদের পুলিশ বাহিনী শুক্রবারে আন্দাজ করতে সক্ষম হয়নি। ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে। সেটাকে ব্যর্থতা বলার কোনো সুযোগ নেই, আমরা পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে চলে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দুটো দায়িত্ব। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এর বাইরে বলা আছে, আইনে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব প্রদান, পালন করা, নির্বাচন সংক্রান্ত। স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। এখানে আইনের মধ্যে এমন কিছু নেই যে, সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে করতে পারে। এটা সমন্বয়ের ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন কালকে যেটা টেন্টেটিভ একটা পরিকল্পনা দিয়েছে, আমি ভিডিওটা দেখেছি। নির্বাচন কমিশন যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; বরং সম্ভাব্য পরিকল্পনা। নির্বাচন কমিশন যে পরিকল্পনা দিয়েছে, সেটি চূড়ান্ত নয়। ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে তারা নির্বাচনি তফসিল চূড়ান্ত করবে বলে মনে করি।
হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে শনাক্তের কাজ চলছে। আদালতের একটি রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হয়তো ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খুঁজে বের করব।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালত স্বাধীন এবং আদালতের রায়ের ওপর সরকারের কোনো মন্তব্য নেই। আমরা মনে করি, আদালতের কাছে ভুক্তভোগী ও দেশবাসী সুবিচার পেয়েছেন। আদালত স্বাধীনভাবে যথাযথ রায় দিয়েছেন।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি আছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আগে দেওয়া বক্তব্যের বাইরে নতুন কিছু বলার নেই।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি