প্রকৃতির এক ঝড়ে হারিয়ে গেল ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক। যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত শতবর্ষী বটগাছটি উপড়ে পড়েছে, আর তাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
কপোতাক্ষ নদের পাড়ঘেঁষা এই বিশাল বৃক্ষটি শুধু একটি গাছ ছিল না- এটি ছিল ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আবেগের মিলিত প্রতীক। স্থানীয়দের মতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছটি কবির স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এই গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে অনুভব করতেন অতীতের ছোঁয়া।
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাছটির শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে বিকট শব্দে তা ভেঙে পড়ে নদীর তীরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের সময় গাছটি দুলতে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছিলেন এর নিচে, পরে দ্রুত সরে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
আরও পড়ুন
এই বটগাছ ঘিরে ছিল স্থানীয় মানুষের নিত্যদিনের জীবনও। কৃষকেরা মাঠের কাজের ফাঁকে এখানে বিশ্রাম নিতেন, নদীর ঘাট ব্যবহার করতেন গ্রামবাসী, আর পাশেই ছিল একটি মন্দির- সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি জীবন্ত সামাজিক কেন্দ্র।
সংস্কৃতি-প্রেমী ও গবেষকদের মতে, গাছটির পতন কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি অবহেলারও ফল। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণের দাবি উঠলেও কার্যকর কোনও উদ্যোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত হারিয়ে গেল একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গাছটি নিলামে বিক্রি করা হবে। তবে স্থানীয় মানুষের আবেগ বিবেচনায় একই স্থানে নতুন একটি বটগাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এএডি/