ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ ভেঙে পণ্য পরিবহনের চেষ্টার অভিযোগে আটককৃত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং এর নাবিকদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (৩ মে) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ‘এমভি তুসকা’ নামের ওই জাহাজটি গত মাসে ওমান উপসাগর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী জব্দ করেছিল। জাহাজটিতে থাকা ২২ জন ক্রুকে বর্তমানে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে তাদের ইরানে ফেরত পাঠানো হবে।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্সের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী সফলভাবে ২২ জন ক্রু সদস্যকে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে। হকিন্স আরও জানান, জাহাজে থাকা আরও ছয়জন যাত্রীকে গত সপ্তাহেই অন্য একটি আঞ্চলিক দেশের মাধ্যমে ইরানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওই ছয়জন ব্যক্তি মূলত জাহাজের ক্রুদের পরিবারের সদস্য ছিলেন। তবে এই হস্তান্তরের বিষয়ে সেন্টকমের কাছে পুনরায় নিশ্চিতকরণের অনুরোধ জানানো হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি। এমনকি পাকিস্তান বা ইরানের সরকারি পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগরে অভিযান চালিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী ‘এমভি তুসকা’ জাহাজটি জব্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া অবরোধ সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করেছিল।
এরপর থেকেই জাহাজ ও এর আরোহীরা মার্কিন সামরিক হেফাজতে ছিলেন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই জাহাজ জব্দের ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিয়েছিল।
বর্তমানে জাহাজ ও ক্রুদের পাকিস্তানে হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটিকে মানবিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওমান উপসাগর এবং এর আশপাশের জলসীমায় ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার উত্তেজনা গত কয়েক মাসে চরম আকার ধারণ করেছে।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু পশ্চিমা জাহাজ জব্দের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এই পদক্ষেপের ফলে আটককৃত সাধারণ নাবিকদের দীর্ঘসূত্রিতা কাটবে এবং তারা পুনরায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সময়ের আলো/টিএইচ