অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

সংবিধান লঙ্ঘন, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ

2026-05-05T02:26:52+00:00
2026-05-05T02:26:52+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:২৬ এএম 
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সংগৃহীত ছবি
সংবিধান লঙ্ঘন, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ বিষয়ে তদন্তে কমিশন গঠনের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ওই সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও রিটে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে তদন্তে কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আর্জি জানানো হয়েছে।

গত রোববার সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। সোমবার তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রিটে ক্যাবিনেট সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান পরিপন্থীভাবে গঠিত ও পরিচালিত হয়েছে। এতে ‘কালারেবল এক্সারসাইজ অব অথরিটি’ এবং আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, যা সংবিধান, আইনের শাসন ও জনগণের আস্থার গুরুতর লঙ্ঘন। এ বিষয়ে সরকারকে পূর্বে আইনি নোটিস দেওয়া হলেও কোনো জবাব না পাওয়ায় রিটটি দায়ের করা হয়েছে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত শপথগ্রহণ করেন, যদিও তার জন্য এ ধরনের শপথের বিধান নেই। ১৫তম সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিলুপ্ত হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের জন্য কোনো শপথ কাঠামো বিদ্যমান নেই। এ অবস্থায় তাদের শপথ গ্রহণ সংবিধানের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা সংবিধান রক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের কর্মকাণ্ডে সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং তা গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ১৩তম সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হলেও তা কেবল নির্বাচনের সময়ের জন্য সীমিত ছিল। ১৫তম সংশোধনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা বিলুপ্তির পরও ওই কাঠামোর বাইরে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালিত হয়েছে, যা সংবিধানবহির্ভূত।

রিটে দাবি করা হয়, প্রধান উপদেষ্টা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হিসেবে সীমিত ভূমিকা পালন করতে পারতেন। 

কিন্তু তিনি জনপ্রতিনিধিত্ব ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন, যা সংবিধানের ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ নীতির পরিপন্থী।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে কার্যত একটি মন্ত্রিসভা পরিচালনা করা হয়েছে, যা ‘নীরব অভ্যুত্থান’-এর শামিল। একই সঙ্গে পরিষদের কিছু সদস্য বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিগত বিষয়ে অবহিত করেননি, যা সংবিধানের ৪৮(৫) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। তিনি একাধিক বিদেশ সফর করলেও তা রাষ্ট্রপতি বা জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাস দেশ পরিচালনার সময় সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যে নিপতিত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার ৭২ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি করা হয়, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে ভিয়েনা কনভেনশনের আলোকে চুক্তিটিকে বাতিলযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চুক্তিটি অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন সীমিত করেছে এবং সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এ ছাড়া সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, দায়িত্বে থাকার সময় সংশ্লিষ্টরা লাভজনক ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রিটে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদের হিসাব নিয়ে একাধিক অভিযোগও আনা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অর্থ জমা, ফিক্সড ডিপোজিট, বিদেশে বিনিয়োগ, জমি ও সম্পত্তি অর্জন, কর ফাঁকি এবং গ্রামীণ ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে গ্রামীণফোনে অংশীদারত্ব, টেলিকম লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া এবং করসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রিটে আরও বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্বে থেকে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার, কর মওকুফ ও বিভিন্ন লাইসেন্স গ্রহণসহ নানা সুবিধা নিয়েছেন, যা আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী।

আবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগ তদন্তে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায় এবং গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। রিটে আদালতের কাছে রুল জারি করে সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট নথি তলব এবং তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে শপথ ও সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই আইনজীবী রিট আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন। পরে তিনি ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন।


  বিষয়:   ড. মুহাম্মদ ইউনূস  হাইকোর্ট  রিট  অন্তর্বর্তী সরকার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: