সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগের জামা বহাল করা হয়েছে, প্যান্টের রং হয়েছে খাকি। সোমবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ করেছি পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে এটি নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না। এই পোশাকটা আসলে সেভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। শুদ্ধ বাংলায় এটি মানানসই না। সে জন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পোশাক নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্য বজায় রেখে গ্রহণযোগ্য একটি পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের শার্ট যেটি ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারা দেশের জন্য, সেটি আমরা বহাল রেখেছি। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটি আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি। তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে দিয়েছি। সেটি তাদের পরিধান করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। কারণ এটি প্রস্তুতির বিষয় আছে, কাপড় প্রোডাকশনের বিষয় আছে, জামার বিষয় আছে। এটি এখনও আমরা অফিসিয়ালি ঘোষণা করিনি; তবে আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি। আজ ঘোষণা দিলাম।
অন্যদিকে জামিন পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে তা তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগী আসামি আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। জামিন দেওয়া সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। তবে তারা যদি পুনরায় অপরাধে জড়ায়, তা হলে অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, কেউ শীর্ষ সন্ত্রাসী হোক বা সাধারণ ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড মানেই অপরাধ। মামলা হলে তদন্ত হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের একটি খারাপ অবস্থা থেকে প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। বিএনপি নেতার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় একটি থানা কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রশাসন আইন অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের ভিন্নমত আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অবস্থানই চূড়ান্তভাবে বিবেচ্য।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অবসর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম। এসব সিদ্ধান্ত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন পদও সৃষ্টি করা যায়। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি জানান, অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কমিটি কাজ করে এবং বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত ১ মে থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা অপারেশনে থাকলেও শুধু নারকোটিক্স বিভাগই অপারেশন করে না, পুলিশ-র্যাবসহ অন্যান্য সংস্থাও এতে অংশ নেয় এবং সহায়তা করে। দেশে মাদকের বিস্তার হয়েছে, যা একদিনে হয়নি। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমরা জোরালো অভিযান চালিয়েছি। প্রতিদিনই এ বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। মাদকের পাশাপাশি অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও আমরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছি। পুলিশও পৃথকভাবে অপারেশন পরিচালনা করছে। এখন মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের মধ্যে ব্যবহারকারীদের না ধরে আগে বড় চোরাচালানকারী ও সীমান্ত দিয়ে যারা মাদক আনে, তাদের আটক করার ব্যবস্থা করছি। যারা নেশা করে, তাদের ধরা তুলনামূলক সহজ।
একজন সাংবাদিককে রোববার বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখবেন। জাতীয় সংসদ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল দেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণবন্ত অধিবেশন। ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের অধিবেশন সক্রিয় ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ।