৩৮ বছরে সোয়া দুই কোটি কিউসেক পানি থেকে বঞ্চিত তিস্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

সিকিম থেকে উৎপত্তি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদী নীলফামারী, লালমনিরহাট,

2026-05-05T03:20:48+00:00
2026-05-05T03:20:48+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
৩৮ বছরে সোয়া দুই কোটি কিউসেক পানি থেকে বঞ্চিত তিস্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৩:২০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সিকিম থেকে উৎপত্তি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদী নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা হয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী দিয়ে ১২৪ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। একসময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত এই নদী বর্তমানে পানিশূন্যতার কারণে মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে গত ৩৮ বছরে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা সোয়া দুই কোটি কিউসেক পানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে নদীর গভীরতা কমে গিয়ে বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠেছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। তিস্তা ব্যারাজ থেকে ভাটির কুড়িগ্রাম পর্যন্ত নদীর অধিকাংশ অংশে এখন বালুচর দেখা যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ কিউসেক। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ শুষ্ক মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হলেও নভেম্বর থেকেই নদীর পানি কমতে শুরু করে।

১৯৮৭ সালে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের পর থেকে তিস্তার পানিপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। হিসাব অনুযায়ী, গত ৩৮ বছরে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার জন্য প্রয়োজন ছিল আড়াই কোটি কিউসেকের বেশি পানি। কিন্তু বাস্তবে গড়ে প্রতি মৌসুমে প্রায় এক হাজার কিউসেক করে মোট ৩৪ লাখ কিউসেক পানি পাওয়া গেছে। ফলে সোয়া দুই কোটি কিউসেক পানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে নদী অববাহিকার মানুষ।

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ায় নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে প্রায় এক লাখ কিউসেকে পৌঁছায়, ফলে তিস্তাপাড়ে বন্যা দেখা দেয় এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে গড়ে এক হাজার কিউসেক পানি পাওয়া যাচ্ছে। সেচ কার্যক্রম চালু রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব গেট বন্ধ রাখতে হচ্ছে, ফলে ভাটির এলাকায় পানি প্রবাহিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে নদীর অধিকাংশ স্থানে পানি নেই, শুধু বালুচর। পানির অভাবে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং মানুষ অনেক স্থানে হেঁটে নদী পার হচ্ছেন।

বাইশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা রইচ উদ্দিন বলেন, নদীতে পানি না থাকায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে তার আয় বন্ধ হয়ে গেছে।

পানির অভাবে তিস্তার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলায় নদীর চরে ভুট্টা, চিনাবাদাম ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হচ্ছে। তবে সেচের জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আগে নদীর পানি দিয়ে সহজে সেচ দেওয়া গেলেও এখন সেচযন্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গাছপালা মারা যাচ্ছে এবং চরাঞ্চল মরুকরণে পরিণত হচ্ছে। এতে মৎস্যজীবী ও মাঝিমাল্লারা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে যৌথ নদী কমিশনের (জিআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। ২০০৬ সালে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

নদী গবেষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, তিস্তা নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা জরুরি।


  বিষয়:   তিস্তা নদী  নীলফামারী  লালমনিরহাট  রংপুর  গাইবান্ধা  কুড়িগ্রাম  চিলমারী  ব্রহ্মপুত্র নদ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: