কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপি চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে নগরীর শাসনগাছা এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে রেজাউলকে পুলিশ আটক করার পর মধ্যরাতে থানা ঘেরাও করে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং রেজাউলের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান ওয়াসিম সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দল অনেক বড় হওয়ায় এর ভেতর ষড়যন্ত্রকারী থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে রেজাউলের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং আটকের পর থানা ঘেরাওয়ের বিষয়টি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই জনমনে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং অভিযোগের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে দলীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। রেজাউল কাইয়ুম কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং স্থানীয় রাজনীতির একজন প্রভাবশালী মুখ হওয়ায় এই ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রেজাউল কাইয়ুম ও তার অনুসারীরা শাসনগাছা বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই টার্মিনাল কেন্দ্রিক চলাচল করা প্রায় ১৬টি রুটের চার শতাধিক যানবাহন এবং কয়েক হাজার অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকা অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবারও টার্মিনালের এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ আসার পর পুলিশ রোববার রেজাউলকে আটক করলেও ওই দিন রাতেই দলীয় কর্মীদের চাপের মুখে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল কাইয়ুম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, শাসনগাছা টার্মিনালে তার নিজের কোনো বাস নেই এবং তিনি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি কেবল মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন এবং টার্মিনালকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবহন খাতে সঠিক নীতিমালার অভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদা আদায় চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে রেজাউলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের পরবর্তী পদক্ষেপ।
সময়ের আলো/টিএইচ