ফেনীতে ট্রেনে কাটা পড়ে মো. হোসেন (৩২) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মটবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় নিহতের শরীর খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে রেললাইনের অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
হোসেন পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্দনা এলাকার মো. ইসহাকের ছেলে। ফেনী শহরের সালাউদ্দিন মোড়ে ‘মেসার্স ফিরোজা অটো পার্টস’ নামে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসা ছাড়াও বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ তার অন্যান্য কারবার ছিল বলে জানা গেছে।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘মহানগর গোধূলি’ ট্রেনটি দেওয়ানগঞ্জ ঝাউবাগান সংলগ্ন মঠবাড়িয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় হোসেন ট্রেনে কাটা পড়েন। ট্রেনের নিচে পড়ায় তার দেহাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে রেললাইনের দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
মো. শরীফ নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বিকেলেও হোসেন ভাইকে দোকানের পাশে দেখেছি। তার বেশ কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশাসহ ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। কিন্তু হঠাৎ কেন তিনি ওই নির্জন এলাকায় গেলেন, তা বুঝতে পারছি না।
ফেনী শহর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান সোহেল জানান, হোসেন তাদের ট্রাংক রোড শাখার একজন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। ঘটনাস্থলে তার আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) পাওয়ায় দ্রুত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, হোসেনের কিছু ব্যবসায়িক দেনা-পাওনা (ঋণ) ছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এ বিষয়ে ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে ওই ব্যক্তি রেললাইন এলাকায় যান বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বৃষ্টির কারণে দেহাংশগুলো উদ্ধারে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেন তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বা তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই