সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার দায় নাকচ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় নিজেদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। আল-জাজিরার

2026-05-05T11:44:21+00:00
2026-05-05T11:44:21+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার দায় নাকচ করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় নিজেদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই হামলাগুলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়নি এবং আমিরাতকে লক্ষ্য করে তেহরানের এ ধরনের কোনো আক্রমণের পরিকল্পনাও ছিল না।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য প্রচার করে জানিয়েছে, আমিরাতের ওপর হওয়া কোনো হামলার দায় ইরান গ্রহণ করবে না, কারণ এসব অভিযানের উৎস বা লক্ষ্যবস্তু কোনোটিই ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান মূলত আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার পারদ কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের পক্ষ থেকে এমন সময়ে এই অস্বীকৃতি এল যখন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-চলাচল নির্বিঘ্ন করতে তারা জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে। 

অন্যদিকে, ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে, তাদের প্রতিপক্ষ বা শত্রু ভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত কোনো জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে অবাধে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আমিরাতের হামলার দায় অস্বীকার করলেও ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ইরানের পক্ষ থেকে নৌ-পথ অবরোধের হুমকির ফলে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। 

ইরানের সূত্রগুলো দাবি করছে, তারা কেবল তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করছে এবং তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে ওই অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় শঙ্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই ছায়াযুদ্ধ হরমুজ প্রণালির নৌ-নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয় বলে এখানকার যেকোনো অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। 

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কোনো উত্তেজনা চায় না কিন্তু তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তারা চুপ থাকবে না। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থানের মধ্যে আরব আমিরাতের ওপর হওয়া হামলার প্রকৃত উৎস উদঘাটন করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: