ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতা হারিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসনভার পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
এই রাজনৈতিক পালাবদল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা— তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে নীতিগত সমন্বয় সহজ হয়, ফলে তিস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার গতি বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় তিস্তার পানিবণ্টন। ২০১১ সালে এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তির মুখে তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর দেড় দশক পার হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
তবে এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির জয় ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে— যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দল ক্ষমতায়। যদিও ভারতের কোনো রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ নেই বাংলাদেশের, তবুও খরা মৌসুমে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়নের আশায় রয়েছে ঢাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি মূলত কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে কোনো একটি রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বড় চিত্রে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. আকমল হোসেন বলেন,‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক তার কিছু কিছু বিষয় সমাধান হয়নি। এরমধ্যে তিস্তা চুক্তি এখনও স্বাক্ষর হয়নি। এবং মমতা ব্যানার্জী চুক্তির পেছনে বাধা হিসেবে কাজ করেছে। তবে এখন দেখার বিষয়, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের বিষয়ে কতটা আন্তরিক। তিনি বাংলাদেশের প্রতি কতটা সহনশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবেন, সেটা ভবিষ্যৎ বলে দিবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে নীতিগত সমন্বয় সহজ হয়, যা তিস্তা চুক্তির মতো জটিল ইস্যুতে অগ্রগতি আনতে সহায়ক হতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ বলেন, ‘এ পরিবর্তনে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের খুব একটা প্রভাব পড়বে না। তারপরও দুপক্ষ থেকে একটা উদ্যোগ নিতে হবে যে, সম্পর্কটাকে কিভাবে আরও সহজ, সুন্দর ও স্বাভাবিক করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করা যাচ্ছে, সম্পর্ক ভালোই হবে, বড় রকমের কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। আমি মনে করি, আমরা যদি তিস্তায় চীনাদের দিয়ে কাজ করাই, তাতেও ভারতের পক্ষ থেকে বড় রকমের কোনো আপত্তি আসবে না। হয়তো তারা খুশি হতো যদি আমরা তাদেরকেও এতে যুক্ত করতে পারতাম। এবং আমাদের সরকারকেও খুঁজে দেখতে হবে সেই সুযোগ আছে কিনা!’
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই পারস্পরিক স্বার্থে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/মহু