ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (৫ মে) ইসি সচিব কে এম আলী নওয়াজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছিলেন যে, নুসরাত তাবাসসুমকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তা প্রকাশ করা হতে পারে। এই গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নুসরাত তাবাসসুমের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত তাবাসসুমের এই মনোনয়ন ও বিজয় ঘিরে বেশ কিছু নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এর আগে জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে এই আসনে মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় নির্বাচনী আইন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন।
মনিরা শারমিন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও সেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়। পরবর্তীকালে তিনি হাইকোর্টের আশ্রয় নেন এবং সেখানে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা ও বিজয় নিশ্চিত হয়।
মনিরা শারমিনের হাইকোর্টে করা আপিলের শুনানি নিয়ে সোমবার বিকেলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। একটি বেঞ্চের একজন বিচারক শুনানি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিষয়টি ঝুলে ছিল। তবে আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার অন্য একটি বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানির কথা রয়েছে।
এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন আইনি বাধ্যবাধকতা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নুসরাত তাবাসসুমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করল। এর ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পদের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটল বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই নেত্রীর বিজয়ের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো। ইসির এই সিদ্ধান্তের পর এখন গেজেটটি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের কাছে তার শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নুসরাত তাবাসসুমের এই বিজয় সংরক্ষিত নারী আসনে জোটের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। আইনি লড়াই ও মনোনয়ন জটিলতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হওয়ায় জামায়াত ও এনসিপি শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সময়ের আলো/টিএইচ