যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা সম্ভব নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাষ্ট্রের সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো চাইলেই ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত

2026-05-05T13:24:24+00:00
2026-05-05T13:28:35+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা সম্ভব নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:২৪ পিএম  আপডেট: ০৫.০৫.২০২৬ ১:২৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
রাষ্ট্রের সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো চাইলেই ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা ও উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই চুক্তিকে দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রসারে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চায় বর্তমান সরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি মূলত দুই পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতির মাধ্যমে গড়ে ওঠে। বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী না হলেও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকে এটিকে এগিয়ে নিচ্ছে। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো চুক্তির কোনো ধারা দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি হয়, তবে তা সংশোধন বা সমন্বয়ের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে, যেটিকে তিনি ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাই এই চুক্তি নিয়ে জনমনে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুরু হওয়া একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, চুক্তির এই বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য আরও ইতিবাচক হতো। তবে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় কোনো ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই এবং ডাম্পিংয়ের অভিযোগও ভিত্তিহীন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং শ্রম আইন মেনে উৎপাদিত হয়, যেখানে শিশুশ্রমের কোনো অবকাশ নেই।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বর্তমান সরকার সবসময় দেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেয়। 

চুক্তির প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যকার এই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: