বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘সিলেক্ট ইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৬’-এ অংশগ্রহণকারী ২৫ সদস্যের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পল কাপুর বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এক নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মার্কিন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধরনের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব উভয় দেশের বিশ্বাস ও নির্ভরতাকে আরও সুসংহত করেছে।
ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পল কাপুর বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্যিক চুক্তির ফলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিদ্যমান অশুল্ক বাধাগুলো দূর হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাও কমেছে।
তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যকার এই মজবুত সম্পর্কই মূলত আগামী দিনের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কৌশলগত রূপরেখা নির্ধারণ করে দেবে। এবারের ইনভেস্টমেন্ট সামিটে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, যেখানে ২ হাজার ৭০০ জন বড় মাপের বিনিয়োগকারী রয়েছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পল কাপুর ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দুই দেশের কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত থেকে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম দু’দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরেন। চেম্বার অব কমার্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়।
বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে অত্যন্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি এলাকা। এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
পল কাপুরের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়। ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত চলমান এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/টিএইচ