নারী ফুটবলে নতুন ঘটনার জন্ম হলো। বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে ক্যাম্প করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আগামী ২৫ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। হ্যাটট্রিক শিরোপার খোঁজে পিটার বাটলারের দল। সাফ মিশন সামনে রেখে আজ থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে আফঈদা, মনিকা, মারিয়ারা। ব্যাংককে ১৫ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প থেকে ভারতে রওনা হবে দল। এবারের টুর্নামেন্ট ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।
টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এবার জিতলে শিরোপার হ্যাটট্রিকপূর্ণ হবে। সেই লক্ষ্যে গতকাল ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। জাতীয় দলের দুই নিয়মিত মুখ স্বপ্না রানী এবং মুনকি আক্তারের জায়গা হয়নি চূড়ান্ত স্কোয়াডে।
থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের অনুশীলন শেষে ২১ মে সরাসরি গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে দল। সেখানে অনুশীলন-প্রস্তুতির পাশাপাশি সেখানকার প্রিমিয়ার লিগ এবং দ্বিতীয় বিভাগের দলের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আফঈদারা। দেশ ছাড়ার আগে গতকাল এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা জানান বাফুফের নারী উইংয়ের চ্যাম্পিয়ন মাহফুজা আক্তার কিরণ। একই সঙ্গে সাফে হ্যাটট্রিক জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দলে প্রধান কোচ পিটার বাটলারের শক্তিশালী ভূমিকার কথা কারোর অজানা নয়। নিয়ম-শৃঙ্খলার ব্যাপারে বেশ কড়া তিনি। শৃঙ্খলাজনিত বেশ কিছু ঘটনা ইতিমধ্যে আলোচিত। সিনিয়র খেলোয়াড় এবং দুবারের সাফজয়ী তারকা সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন, সানজিদা আক্তাররা যে দলে এখন অনিয়মিত কিংবা সাফের বর্তমান দলে তারা বিবেচিত হননি- তার মূল কারণ শৃঙ্খলা। সাবিনাদের ভাগ্য বরণ করলেন স্বপ্না, মুনকি।
এ ব্যাপারে গতকাল পিটার বাটলার গণমাধ্যমকে জানান, স্বপ্না এবং মুনকির ক্ষেত্রে কারণ হলো, খারাপ পারফরম্যান্স। তারা সেই পর্যায়ে পারফর্ম করেনি, কথা শোনেনি এবং আশা করি একদিন তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে। আশা করি তারা উপলব্ধি করবে যে আমি তাদের ভালোর জন্যই এটি করছি। তাই তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা দলের সঙ্গে অনুশীলন করছে না, এমনকি প্রশিক্ষণ দলেও নেই। আর এর কারণ স্পষ্ট- খারাপ পারফরম্যান্স।
২০২৪ সালের সাফের স্কোয়াড থেকে এবার সাফে নেই মোট ১০ জন। সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, সুমাইয়া মাতসুশিমা, কৃষ্ণা রানী সরকার ও সানজিদা আক্তার ছিলেন সাফজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মিয়ানমারে হওয়া এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পর থেকেই তারা আর বাটলারের বিবেচনায় নেই।
এ ছাড়া ওই আসরে খেলেছেন নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, গোলকিপার ইয়ারজান বেগম, আইরিন খাতুন, স্বপ্না রানী ও মুনকি আক্তার। গত সাফে ছিলেন না এবার দলে ঢুকেছেন তারা হলেন- সুরমা জান্নাত, হালিমা আক্তার, সুরভী আক্তার আরফিন, উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মমিতা খাতুন, উমেহ্লা মারমা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, সৌরভী আকন্দ প্রীতি এবং স্বর্ণা রানী মণ্ডল।
দলে একেবারে নতুন মুখ মমিতা খাতুন এবং ডিফেন্ডার অর্পিতা বিশ্বাস। দুজনেই বয়সভিত্তিক দলে পারফরম্যান্স করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন।
দলে নতুনদের সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, নতুন বলতে কিছু নেই, কারণ আমরা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে অনুশীলন করছি। সবার মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো। আশা করি সবাই মিলে ভালো কিছুই করতে পারব। একই সঙ্গে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার ব্যাপারেও দারুণ আশাবাদী বাংলাদেশের অধিনায়ক।
দলকে শিরোপা এনে দেওয়ায় বাটলারের ওপর সেই অর্থে চাপ নেই। স্বাধীনভাবেই তিনি মতামত প্রকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। এই যেমন মার্চে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে খেলতে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। এবার তার মুখে সেই বিষয়ে কোনো কথা নেই।
এ ব্যাপারে বাটলার বলেন, আমাদের প্রস্তুতি এখনও শেষ হয়নি। আমি বিষয়টাকে এভাবে দেখি যে, ফুটবল হলো একটি নিরন্তর শেখার প্রক্রিয়া। আমি শৃঙ্খলা চাই। আমি চাই সব কাজ সঠিকভাবে হোক। আমি সততার সঙ্গে বিশ্বাস করি যে, গত দুই বছরে মেয়েরা অনেক উন্নতি করেছে। আমরা একটি সুন্দর ধাঁচের ফুটবল খেলি। আমি সবসময়ই বলি যে, আমরা সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের চেয়েও ভালো ফুটবল খেলি।
সাফের জন্য ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ দল- রুপণা চাকমা, মিলি আক্তার, সুরমা জান্নাত, হালিমা আক্তার, সুরভী আক্তার আরফিন, উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মোসাম্মৎ মমিতা খাতুন, উমেহ্লা মারমা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, সৌরভী আকন্দ প্রীতি, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, শামসুন্নাহার জুনিয়র, শামসুন্নাহার সিনিয়র, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, শাহেদা আক্তার রিপা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মোসাম্মৎ সাগরিকা, তহুরা খাতুন, শিউলি আজিম।
সময়ের আলো/জেডি