কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে মোট ১৩ জনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এই অভিযানে মাদক কারবারের অভিযোগে ১০ জন এবং মিয়ানমারে অবৈধভাবে পণ্য পাচারের চেষ্টার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মাদক ও চোরাচালান বিরোধী এই নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে বিদেশি মদ ও বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি সন্দেহভাজন নৌকা তল্লাশি করে।
এ সময় বোটটি থেকে ৮ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয় এবং মাদক কারবারে জড়িত থাকার দায়ে বোটে থাকা ১০ জনকে আটক করা হয়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে মাদক পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
একই দিনে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ গোলারচর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায়। কোস্টগার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর একটি দল শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পণ্য পাচারের চেষ্টার সময় একটি বোট আটক করে।
তল্লাশি চালিয়ে বোটটি থেকে ৪০০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪০০ কেজি পেঁয়াজ এবং ৪৫০ কেজি ময়দা জব্দ করা হয়। পাচারকাজে সরাসরি লিপ্ত থাকার অভিযোগে বোটসহ তিনজনকে আটক করে কোস্টগার্ডের সদস্যরা। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিত্যপণ্যের অবৈধ পাচার রোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, জব্দকৃত মাদক ও খাদ্যসামগ্রীসহ পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট দুটি বর্তমানে কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান এবং মাদক পাচার বন্ধে কোস্টগার্ডের এই কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ