জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নিজের নামের আগে পেশাগত উপাধি হিসেবে ‘অ্যাডভোকেট’ শব্দটি যুক্ত করার আবেদন করেছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তবে বিদ্যমান আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তার এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (৬ মে) এনআইডি অনুবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী এনআইডিতে নামের আগে কোনো ধরনের পেশাগত বা ধর্মীয় পদবি ব্যবহারের সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তার এনআইডিতে নাম সংশোধন করে ‘অ্যাডভোকেট’ পদবি যোগ করার জন্য সম্প্রতি একটি আবেদন জমা দেন।
কমিশনের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো অর্জিত পদবি বা পেশাগত পরিচয় মূল নামের অংশ হিসেবে ব্যবহারের আইনি ভিত্তি নেই। ফলে ইসি তার আবেদনটি না-মঞ্জুর করে দেয়। এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি পুনরায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও কমিশন এখন পর্যন্ত তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে এবং কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ইসির কর্মকর্তারা এই বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করে জানিয়েছেন, বর্তমানে কেবল উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতিদের ক্ষেত্রে পদবি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে শুধুমাত্র ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটি এনআইডিতে নামের আগে ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। তবে ভোটার তালিকা আইন-২০০৯ অনুযায়ী, নামের শুরুতে ‘ড.’, ‘প্রফেসর’, ‘হাজি’, ‘আলহাজ’ কিংবা ‘অ্যাডভোকেট’-এর মতো কোনো শিক্ষাগত, ধর্মীয় বা পেশাগত উপাধি ব্যবহারের বৈধ কোনো বিধান রাখা হয়নি। এই আইনি কাঠামোর কারণেই হুইপ দুলুর বিশেষ অনুরোধটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, এনআইডি একটি ব্যক্তির প্রাথমিক পরিচয়পত্র যেখানে কেবল সনদে থাকা মূল নাম ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। কোনো ব্যক্তি চাইলে তার শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা অন্য দাপ্তরিক নথিতে ব্যবহার করতে পারলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তা যুক্ত করা জাতীয় ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কমিশন মনে করে, এ ধরনের আবদার গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য পেশাজীবীরাও একই ধরনের দাবি তুলবেন, যা আইনের পরিপন্থী হবে। ফলে সব নাগরিকের জন্য একই নিয়ম বলবৎ রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
সময়ের আলো/টিএইচ