কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে এ সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি মালবাহী জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ইরান বা দেশটির সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর আনীত এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইরান দ্ব্যর্থহীনভাবে এটি প্রত্যাখ্যান করছে। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কোনো কাজে তাদের সামরিক বাহিনী জড়িত নয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়া ওই জাহাজটি দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী ছিল। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাজটিতে কেন বিস্ফোরণ ঘটল বা আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সিউল প্রশাসনের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিকে নিরাপদ কোনো বন্দরে ফিরিয়ে আনার পর সেটিতে কারিগরি ও ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হবে। এরপরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে বলে দেশটি জানিয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই জলপথটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হওয়ার কারণে এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি বা নাশকতার অভিযোগ উঠলেও এবারের ঘটনার দায়ভার নিয়ে এখনো কোনো অকাট্য প্রমাণ সামনে আসেনি। তবে ইরান শুরুতেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে এই ঘটনার দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে তাদের জাহাজটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এর নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সিউলে ইরানি দূতাবাসের বিবৃতি প্রকাশের পর ধারণা করা হচ্ছে, এই ইস্যুটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা বর্তমানে জাহাজটির বন্দরে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে এই রহস্যজনক বিস্ফোরণের পেছনের আসল সত্যটি উন্মোচিত হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ