দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এক পৃষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (৬ মে) ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশ সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং এর মাধ্যমে দ্রুতই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা ছাড়াও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা এবং তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ৩০ দিনের একটি নিবিড় আলোচনার সময়সূচি শুরুর কথা বলা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪টি পয়েন্ট বা দফা সম্বলিত এই সমঝোতা স্মারকটির খসড়া তৈরিতে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
তারা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছেন। বর্তমানে এই খসড়াটি তেহরানে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত মতামত জানাবে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে। এই চুক্তিতে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করলে তা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।
কূটনৈতিক এই তৎপরতার মাঝেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৪ মে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহাড়ায় নিরাপদে পার করার জন্য ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তবে নাটকীয়ভাবে মাত্র দুই দিনের মাথায় গত ৬ মে বুধবার তিনি নিজেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকল্পটির কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই অ্যাক্সিওস সমঝোতা স্মারক বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে সামরিক শক্তির পরিবর্তে এখন আলোচনার টেবিলেই সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে দুই দেশ।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একটি ১৪ দফা বিশিষ্ট শান্তি প্রস্তাবনা তেহরান গ্রহণ করেছে এবং বর্তমানে সেটি সরকার পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যদিও রয়টার্স এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যদি এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
সময়ের আলো/টিএইচ