স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আমরা পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় নিয়ে আসতে পেরেছি বলে আমাদের এখন বিশ্বাস জন্মেছে। তাই সরকারি পর্যায়ে একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে রাখতে পারব না।
সিলেট বিভাগের পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
এর আগে মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ওই কমিটির সভাপতি।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এটা সত্য। তবে আমরা কীভাবে করব, সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থা বসে পর্যায়ক্রমে সে ব্যবস্থাটা নেব।
দেশে চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। অপেক্ষা করেন, দেখতে পাবেন। প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু দাগি আসামি, মাদকসংক্রান্ত আসামি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
পাথর কোয়ারি নিয়ে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশসংক্রান্ত আইন বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে জাফলংসহ যেগুলো ক্রিটিক্যাল এলাকা, সেগুলো বাদে অন্য এলাকায় (কোয়ারি) সীমিত আকারে ইজারা প্রদান করা যায় কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সভা হয়েছে। বৈঠকে সবার মতামত নিয়ে একটি সার্ভে রিপোর্টের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। ওই সমীক্ষার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করবে। যেখানে ওয়াটার ব্যারিকেড হয়ে যাচ্ছে, যেখানে নদী ভাঙনের কারণে সীমান্ত পরিবর্তন হচ্ছে, তা পরীক্ষা করবে। কত গভীরতায় গিয়ে পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশ রক্ষা হবে। পর্যটন এলাকাগুলোতে কীভাবে পর্যটক আকর্ষণ করা যায়, তা দেখবে।
এ মাসের শেষে ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আবার বৈঠক হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যেসব মামলা আছে, সেগুলোর বিষয়ে কমিটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থা নেবে। আমরা যাই করব, আইন মেনে করব।
সময়ের আলো/জেডআই